প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৮ নভেম্বর ২০২৫ ২২:৫৩ পিএম
এখন যে ভূমিকম্পের রেখার কথা শুনছি, এদেশের মানুষের মধ্যে তার চাইতে অনেক বড় বিভেদ রেখা দৃশ্যমান বলে মন্তব্য করেছেন ছায়ানটের সভাপতি সারওয়ার আলী। তিনি বলেন, সঙ্গীত মানুষে মানুষে বিভেদ দূর করতে পারে।
শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) রাজধানীর শংকরে ছায়ানট সংগীতবিদ্যায়তনের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন সারওয়ার আলী।
এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ষাট থেকে আশির দশকের জনপ্রিয় রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী অধ্যাপক ফাহ্মিদা খাতুন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, আমরা অনেক বাধা অতিক্রম করে সঙ্গীত শিক্ষা করেছি। বর্তমান প্রজন্ম অত্যন্ত ভাগ্যবান তারা জীবনের শুরুতে ছায়ানটের মতো একটি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার সুযোগ পেয়েছে।

সমাবর্তনে ছায়ানট সঙ্গীতবিদ্যায়তনের ১৪২১ থেকে ১৪৩০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের মধ্যে অভিজ্ঞানপত্র বিতরণ করা হয়। এ সময় ৪৮০ জন সফল শিক্ষার্থীর মধ্যে ৩৩১ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে হেমন্তের হালকা শীতের পরশমাখানো বিকালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘বাজাও তুমি কবি’, কাজী নজরুল ইসলামের ‘নবীন আশা জাগল যে রে আজ’ এবং বাউলশিরমনি লালন সাঁইজির ‘এমন মানব জনম আর কি হবে’ শীর্ষক টানা তিনটি সম্মেলক কণ্ঠে সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে প্রধান অতিথিকে স্বাগত জানিয়ে শুরু হয় আয়োজনটি।
প্রধান অতিথিকে মঞ্চে নিয়ে আসেন সঙ্গীতবিদ্যায়তনের শুরু অর্থাৎ ১৯৬৩ সালে ভর্তি হয়ে ১৯৬৭ সালে উত্তীর্ণ দুই কৃতি শিক্ষার্থী সেলিনা মালেক চৌধুরী ও ইফ্ফাত আরা দেওয়ান। শুরুতে ছায়ানটের সাধারণ সম্পাদক লাইসা আহমদ লিসা স্বাগত সম্ভাষণ জানান। পরে প্রধান অতিথি ফাহ্মিদা খাতুনের উপর একটি তথ্যচিত্র উপস্থাপনের পর তিনি সমাবর্তন ভাষণ দেন।

শিক্ষার্থীদের মধ্যে অভিজ্ঞানপত্র বিতরণের পরেই শুরু হয় দ্বিতীয় পর্ব। এ পর্বে ছিল প্রতিষ্ঠানের সেরা শিক্ষার্থদের পরিবেশনা। এতে রবীন্দ্রসঙ্গীত পরিবেশন করেন- দীপ্র নিশান্ত, নজরুলসঙ্গীত পরিবেশন করেন- মিরাজুল জান্নাত সোনিয়া, লোকসঙ্গীত পরিবেশন করেন- মতিউর রহমান বকুল, দ্বৈত কন্ঠে রাগ হংসধ্বনি পরিবেশন করেন- দিপু সমদ্দার ও লায়েকা বশীর, একক তবলাবাদন করেন- অনন্য ইগ্নেসিউস রোজারিও, মণিপুরী নৃত্য পরিবেশন করেন- দীপান্বিতা আনজুম এবং ভরতনাট্যম্ পরিবেশন করেন- রিতু পাল।
সবশেষে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।
আয়োজক কর্তৃপক্ষ জানায়, করোনা এবং দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতির কারণে নিয়মিতভাবে সমাবর্তন আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। এবারের সমাবর্তনে দশ শিক্ষাবর্ষের ৪৮০ জন সফল শিক্ষার্থী অভিজ্ঞানপত্র পাবেন।