প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৫ অক্টোবর ২০২৫ ১৮:৩৬ পিএম
ছবি: লেখক রকিব হাসান।
জনপ্রিয় কিশোর গোয়েন্দা সিরিজ তিন গোয়েন্দার স্রষ্টা লেখক রকিব হাসান (৭৫) আর নেই। বুধবার (১৫ অক্টোবর) বিকেলে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
রকিব হাসানের মৃত্যুর খবরটি জানিয়েছেন সেবা প্রকাশনীর উপদেষ্টা মাসুমা মায়মূর। তিনি সেবা প্রকাশনীর প্রতিষ্ঠাতা কাজী আনোয়ার হোসেনের ছোট ছেলে কাজী মায়মূর হোসেনের স্ত্রী।
রকিব হাসান ধানমন্ডির গণস্বাস্থ্য হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। তার দুটি কিডনিই বিকল হয়ে গিয়েছিল। আজ ডায়ালাইসিস চলাকালীন হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তিনি মারা যান।
পড়ুয়াদের কৈশোরের সঙ্গী তিন গোয়েন্দা এর লেখক রকিব হাসান। ১৯৫০ সালের ১২ ডিসেম্বর তিনি কুমিল্লায় জন্মগ্রহণ করেন। তবে বাবার চাকরির সুবাদে তার ছোটবেলা কেটেছে ফেনীতে।
পড়াশোনা শেষে বিভিন্ন চাকরিতে যুক্ত হলেও অফিসের বাঁধাধরা জীবনে মন টেকেনি এই লেখকের। অবশেষে তিনি লেখালেখিকেই বেছে নেন জীবনের একমাত্র পথ হিসেবে। নিজ নামে লেখার পাশাপাশি তিনি ব্যবহার করেছেন বিভিন্ন ছদ্মনাম। শামসুদ্দীন নওয়াব নামে তিনি অনুবাদ করেছিলেন জুল ভার্নের বইগুলো।
রকিব হাসানের প্রথম বই প্রকাশিত হয় ছদ্মনামে, ১৯৭৭ সালে। স্বনামে প্রথম প্রকাশ অনুবাদগ্রন্থ 'ব্রাম স্টোকারের ড্রাকুলা' দিয়ে। তিনি আরও অনুবাদ করেছেন এরিক ফন দানিকেন, ফার্লে মোয়াট, জেরাল্ড ডুরেলের মতো বিখ্যাত লেখকদের ক্লাসিক বই। অনুবাদ করেছেন অ্যারাবিয়ান নাইটস ও এডগার রাইস বারোজের টারজান সিরিজ। ছোটদের জন্য লিখেই তিনি অধিক খ্যাতি পেয়েছে। তিন গোয়েন্দা ছাড়াও তার অন্য দুটি সিরিজ তিন বন্ধু ও গোয়েন্দা কিশোর মুসা রবিন। তার তিন গোয়েন্দা সিরিজের মোট বইয়ের সংখ্যা ১৬০। অনুবাদ করেছেন ৩০টি বই। বড়দের উপযোগী তার লেখা কিছু রহস্য উপন্যাসও জনপ্রিয়তা পেয়েছে।
রকিব হাসানের রোমহর্ষক সিরিজে রেজা ও সুজা দুই ভাইয়ের অ্যাডভেঞ্চার কাহিনি বর্ণিত হয়েছে। এই সিরিজটি থেকে তিন গোয়েন্দায় অনেকগুলো গল্প ভিন্ন নামে প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া কিশোরদের জন্য বেশ কিছু সায়েন্স ফিকশনও লিখেছেন তিনি।
থ্রিলার এবং গোয়েন্দা গল্প লেখার পূর্বে তিনি অন্যান্য কাজেও যুক্ত ছিলেন। রহস্য পত্রিকার সহকারী সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন এই লেখক।
রকিব হাসান কেবল তিন গোয়েন্দারই ১৬০টি বই লিখেছেন। এছাড়া কমপক্ষে ৩০টি বই অনুবাদ করেছেন।