মো. কুতুব উদ্দিন, ঢাকা
প্রকাশ : ০৪ এপ্রিল ২০২৫ ২১:২১ পিএম
আপডেট : ০৬ মে ২০২৫ ০০:৩৪ এএম
ছবি: সংগৃহীত
রেশমি ফুল
রেশমি—
নামেই যার নরম পরশ,
পাঁপড়িতে যেন রঙের নিঃশব্দ ধারা।
শরতের আলোয় ঝিকিমিকি,
বসন্তে সে নিঃশব্দে ফুটে—
না বলে ভালোবাসে, না চেয়ে হৃদয় জাগায়।
তার ঘ্রাণ ভারী নয়,
কিন্তু মন টানে দীর্ঘ সময়।
রেশমি ফুল সহজে ফোটে না—
ফোটে কেবল যত্নে, অপেক্ষায়,
আর গভীর এক নিঃশব্দ আরাধনায়।
ছয়টি বছর ধরে-
আমি একটিমাত্র রেশমি ফুলকে বাঁচিয়ে রাখার সাধনায় ছিলাম।
রোদ এড়িয়েছি, জলে ভিজিয়েছি,
অভিমান পেলে মুখ ঢেকেছি,
তবু কখনো কাঁটা দেইনি।
একদিন প্রেয়সী-
প্রথমদিন তাকে তুলে দিয়েছিলাম হাতে,
সে নিয়েছিল, কিছু না বলেই।
তারপর কিছু পাঁপড়ি তুলে রেখেছিল
একটি ডায়েরির পাতায়,
আর আমার ঘড়িটিও—
যেখানে সময় থেমে আছে আজও,
ঠিক সেই মুহূর্তে যখন সে গ্রহণ করেছিল ফুলটি।
রেশমি তখনও ছিল জীবন্ত—
চোখে ছিল আলো, স্পর্শে ছিল স্বপ্ন।
তার প্রতিটি ভাঁজে লুকিয়ে ছিল
একটি করে ঋতুর প্রতিশ্রুতি।
কিন্তু সময় চিরদিন সাথী হয় না,
নিস্তব্ধতার ভারে,
রেশমি ফুরটি একদিন শুকিয়ে গেল।
যত্ন ছিল,
তবু প্রাণ ফিরল না।
ডায়েরির পাতা আজও গন্ধ রাখে,
ঘড়ির কাঁটা আজও একই সময় চেনে—
কিন্তু রেশমি নামক ফুলটি নেই,
নেই তার মৃদু রঙ, কোমল স্পর্শ,
আর কোনো বসন্ত তার জন্য ফেরে না।
একটি ফুলের আয়ু যতটাই হোক,
তার স্মৃতি দীর্ঘতর হয়
যখন তাকে ভালবেসে
বাঁচানো যায় না।
পুষ্পরাণী

মানুষ ফুল ভালোবাসে, কিন্তু সাময়িকভাবে।
ঘ্রাণটা নেয়,
রঙটা
নেয়,
তারপর
ফেলে
দেয়।
কিন্তু
ফুল?
সে
মানুষকে ভুলতে
পারে
না—
হৃদয়ের
কোণায়
রয়ে
যায়,
চুপচাপ।
তুমি
ফুলে
ঘ্রাণ
খুঁজেছিলে,
প্রেয়সির ওড়নার
জন্য,
তাকে
সাজিয়ে
দিতে
চেয়েছিলে,
ফুলকে
ভালোবেসে নয়—
তাকে
প্রেমের অর্ঘ্য
বানিয়ে
দিলে।
বাসররাতে মানুষ
ফুলকে
পাশে
রাখে
না,
রাখে
বধূকে—
ফুলের
জায়গা
থাকে
বালিশের পাশে,
ভোরে
শুকিয়ে
পড়ে।
মানুষ
ফুল
কিনে,
দাম
দিয়ে।
কিন্তু
মান?
কে
দেয়
মান?
দুই
টাকার
ফুল,
দুই
চোখ
ভেজাতে
পারে—
তা
বোঝে
কয়জনে?
মানুষ
কার্পণ্য করে,
ফুল
দেয়
নিঃস্বার্থ ভালোবাসা।
সে
নিজের
কিছু
রাখে
না,
তবু
মানুষই
ভাবে,
সে
মহান।