প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১৮:২০ পিএম
অমর একুশে বইমেলার ২৭তম দিন আজ। আর একদিন পরেই শেষ হতে যাচ্ছে এই প্রাণের মেলা। বাংলাদেশের প্রকাশনা জগতের কিংবদন্তি চিত্তরঞ্জন সাহার হাত ধরেই শুরু হয়েছিল এই বইমেলার পথচলা।
১৯৭২ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি, বাংলা একাডেমির একুশে অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে চিত্তরঞ্জন সাহা তার প্রকাশনী ‘মুক্তধারা’ থেকে প্রকাশিত ৩৩টি বই নিয়ে বর্ধমান হাউসের পাশে চট বিছিয়ে প্রদর্শনী ও বিক্রির ব্যবস্থা করেন। সেখান থেকেই গোড়াপত্তন হয় আজকের এই বিশাল বইমেলার। পরবর্তী সময়ে, ১৯৭৪ সালে বাংলা একাডেমির ভেতরে একটি স্টল স্থাপন করে তিনি বই প্রদর্শনী ও বিক্রির নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেন।
চিত্তরঞ্জন সাহার বইমেলা প্রবর্তনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রতিবছর ‘মুক্তধারা’ প্রকাশনীর জন্য ১ ও ২ নম্বর স্টল বরাদ্দ রাখা হয়। এ প্রসঙ্গে মুক্তধারা বিক্রয় প্রতিনিধি ইন্দ্রজিৎ সেন বলেন, বইমেলার ঐতিহ্য ও ইতিহাস ধরে রাখতে চিত্তরঞ্জন সাহার নামে একটি প্রবেশপথের তোরণ নির্মাণ বা স্টলের সামনে তার জীবন ও অবদান তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।
মুক্তিযুদ্ধের সময় কলকাতায় শরণার্থী জীবন কাটানোর মধ্যেও চিত্তরঞ্জন সাহা বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে জনমত গঠনে কাজ করেন। তিনি গঠন করেন ‘স্বাধীন বাংলা সাহিত্য পরিষদ’ এবং ১৯৭১ সালের ২৮ মে প্রতিষ্ঠা করেন ‘মুক্তধারা’ প্রকাশনী। ২০০৫ সালে তিনি একুশে পদকে ভূষিত হন।
অমর একুশে বইমেলা শুধু বই কেনাবেচার উৎসব নয়, এটি একটি ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং ইতিহাসের প্রতিচ্ছবি। চিত্তরঞ্জন সাহার এই অসামান্য অবদান প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে দেওয়াই হোক আমাদের লক্ষ্য।