হাসনাত শাহীন
প্রকাশ : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ২০:৩৯ পিএম
আপডেট : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ২০:৪১ পিএম
প্রবা ফটো
একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ বাঙালির জীবনে আনন্দ-বেদনার এক ঐতিহাসিক গাঁথা। এই মহান মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে জড়িয়ে আছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম। ফলে, গৌরবোজ্জ্বল মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বিভিন্ন সময়ে লেখা হয়েছে- কবিতা, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, ইতিহাসসহ নানা ধরনের বই।
প্রতিবছর বইমেলায় প্রকাশিত হয়েছে মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে নানামাত্রিক বই। তবে, সোমবার বইমেলার ২৪তম দিন পর্যন্ত খোঁজ নিয়ে জানা গেছে- নতুন প্রজন্মের পাঠকদের মাঝে মুক্তিযুদ্ধের বইয়ের আগ্রহ থাকলেও প্রকাশনার দিক থেকে গত পাঁচ বছরের তুলনায় এবার মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে প্রকাশিত হয়েছে হাতেগোনা কয়েকটা বই।
বাংলা একাডেমির জনসংযোগ থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, গত পাঁচ বছরে বইমেলায় মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে প্রকাশ হয়েছে ৪৬০টির মতো নতুন বই। ২০২০ থেকে ২৩ পর্যন্ত প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা ২৮৭টি। গত বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালের বইমেলায় প্রকাশ হয়েছে ১৭৩টির মতো। আর এবারের মেলায় গত ২৪ দিনে মুক্তিযুদ্ধের বই এসেছে মাত্র ১৬টি। যা গত বছরের তুলনায় একেবারেই নগন্য।
প্রকাশকরা বলছেন, গল্প, উপন্যাস ও ও গোয়েন্দা কাহিনীর বইয়ের পাশাপাশি পাঠকদের কাছে মুক্তিযুদ্ধের বইয়ের এবারও চাহিদাও আছে। বিশেষ করে তরুণদের অনেকেই স্টল ও প্যাভিলিয়ন ঘুরে ঘুরে মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে রচিত বই কিনছেন। কিন্তু, এবার মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বইয়ের পান্ডুলিপি সেভাবে পাইনি। যে কারণে এবারের বইমেলায় এ ধরণের বিষয়ে বই কম বের হয়েছে।
এদিকে, বইমেলার শুরু থেকে আজ ২৪তম দিন পর্যন্ত ঘুরে দেখা যায়, এবার বেশির ভাগ স্টল ও প্যাভিলিয়নে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ও বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে রচিত বইগুলো আগের মতো থরেথরে সাজানো নেই। অথচ, বইমেলায় অংশ নেওয়া প্রকাশনা সংস্থাগুলোর প্রায় সব প্রকাশনা সংস্থায়- মুক্তিযুদ্ধের অজানা ইতিহাস, যুদ্ধের প্রেক্ষাপট, মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতিকথন, যুদ্ধের ভয়াবহতা, পাকিস্তানিদের বর্বরতা, গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ ইত্যাদি বিষয় নিয়ে গবেষণা, প্রবন্ধ, ইতিহাস ভিত্তিক, উপন্যাস, গল্প, কবিতা-সহ বিভিন্ন ধরনের বই প্রকাশ করেছে। এর পাশাপাশি তারা নানা ধরনের বই প্রকাশ করেছে মুক্তিযুদ্ধের মহানায়ক জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়েও।
এ বিষয়ে বিভিন্ন স্টল-প্যাভিলিয়নের কর্তাব্যাক্তিরা প্রতিদিনের বাংলাদেশকে জানান, আমাদের প্রকাশিত মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধু নিয়ে প্রকাশিত বইগুলো আছে; বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে তা একটু আড়ালে রেখেছি। কেউ এ সম্পর্কের বই চাইলে আমরা তা তাকে দেখাচ্ছি এবং বিক্রি করছি।
এদিকে, আজ ২৪তম দিনে লোকসমাগম ছিল অন্যান্য দিনের তুলনায় খুবই কম। লোক সমাগম কম থাকায় এদিনের মেলা ছিলো ধূলোমুক্ত। তবে এদিনের মেলায় আগতদের প্রায় সবার হাতেই ছিলো বই।
মেলার নতুন বই: আজ সোমবার; অমর একুশে বইমেলার ২৪তম দিনে নতুন বই এসেছে ৯৮টি। আর গত ২৪ দিনে মোট নতুন বই প্রকাশ হয়েছে ২ হাজার ২১৩টি। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য বইগুলো হলো- ঐতিহ্য থেকে প্রকাশিত হয়েছে- মনজুরুল হকের ‘পৃথিবীর পথে পথে লিটল ফাইটার স্লিপিং উইথ আর্মস (দ্বিতীয় পর্ব)’, ইয়াসমিন সুলতানার ‘মুক্তিযুদ্ধ ১৯৭১ বীর সালাহউদ্দিন’, পিনাকী ভট্টাচার্য’র ‘মুক্তিযুদ্ধ-ধর্ম-রাজনীতি ও অন্যান্য’ ও ‘মুক্তিযুদ্ধের বয়ানে ইসলাম’, আগামী প্রকাশনী নিয়ে এসেছে- মো. মোজাম্মেল হকের ‘১৯৭১: দিনপঞ্জি’, রফিকুর রশীদের ‘মুক্তিযুদ্ধের কিশোরগল্প’, ফরিদা আখতার সম্পাদিত ‘নারী মুক্তিযোদ্ধা’, মেজর (অব.) নাসির উদ্দিনের ‘মুক্তিযুদ্ধ ও যুদ্ধোত্তর বাংলাদেশে’, আরেফিন বাদলের ‘মুক্তিযুদ্ধ একাত্তর বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী চুক্তি ভাসানীর কনফেডারেশন থিওরি’, অপূর্ব শর্মার ‘মুক্তিসংগ্রামে নারী’, ড. মোহাম্মদ জহুরুল ইসলামের ‘মুক্তিযুদ্ধে বিদেশি বন্ধুরা’, মাওলা ব্রাদার্স থেকে প্রকাশিত হয়েছে- কাজী রেহানা মাসুদের ‘ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধে নারীর ভূমিকা’ ও সিরাজ উদ্দিন সাথীর ‘মুক্তিযুদ্ধের ভিতর বাহির’, গ্রন্থিক প্রকাশন এনেছে- সাদিয়া সুলতানার ‘আগুনভাঙা ফুল’, গাঙচিল প্রকাশন এনেছে- অধ্যক্ষ খান আখতার হোসেনের ‘চুকনগর গণহত্যা’ এবং বিভাস প্রকাশনী নিয়ে এসেছে- রণেন সরকারের ‘একাত্তরের পটভূমিকায় ও অন্যান্য’ ইত্যাদি।
মেলার মূল মঞ্চের আয়োজন: বিকেল ৪টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘জন-আকাক্সক্ষার নাট্যকলা-যাত্রা: ঐতিহ্যের পরম্পরায় জাতীয়তাবাদী শিল্পরীতি এবং অমলেন্দু বিশ্বাস’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন- সাইদুর রহমান লিপন। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন- শাহমান মৈশান। সভাপতিত্ব করেন- মিলনকান্তি।
এরপর একই মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতিক আয়োজন। এতে কবিতা পাঠ করেন- কবি ফাতেমা তামান্না, টোকন ঠাকুর এবং মো. কামাল হোসেন। পরে সংগীত পরিবেশন করেন- আহমেদ শাকিল হাসমী, মো. ইকবাল হোসেন, শহ আল চৌধুরী বিমল দাস, দিপা আফ্রিদি, রোমানা আক্তার, মিসেস খালেদা বেগম, রাতুল শাহ, শেলী চন্দ, আঞ্জুমান আরা শিমুল, মো. খালেদ মাহমুদ মুন্না, আজমা সুরাইয়া শিল্পী, নাফিসা ইসলাম ফাইজা। শিল্পীদের বাদ্যযন্ত্রে সঙ্গ দেন- এস এম জিয়াউর রহমান (তবলা) আনোয়ার সাহদাত রবিন (কী-বোর্ড), মো. শহিদুল ইসলাম (বাঁশি), মো. রনি (বাংলা ঢোল) এবং খোকন বাউলা (দোতারা)।
অন্যদিকে, মেলার লেখক বলছি মঞ্চে নিজেদের নতুন বই নিয়ে আলোচনা করেন কবি শাহীন রেজা, কবি এজাজ ইউসুফী এবং কবি শোভা চৌধুরী।
আগামীকালের মেলার অনুষ্ঠান: আগামীকাল মঙ্গলবার; অমর একুশে বইমেলা’র পঁচিশতম দিন। এদিনের মেলা শুরু হবে বিকেল ৩টায় এবং চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত। এর মধ্যে বিকেল ৪টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে ‘জুলাই অভ্যুত্থান: গ্রাফিতি’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন মুনেম ওয়াসিফ। আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন তাসলিমা আখতার এবং কামার আহমাদ সাইমন। সভাপতিত্ব করবেন ফারুক ওয়াসিফ।