প্রত্যেক মরশুমেরই কিছু নিজস্ব ইতিবাচক এবং নেতিবাচক দিক রয়েছে। তবে ত্বক ক্ষেত্রে, গরমকালে নেতিবাচক দিকই বোধহয় বেশি। অল্পেই ঘেমে যাওয়া, ট্যানিং, ঘামাচি, র্যাশ, অ্যাকনে, তৈলাক্ত ত্বক, সমস্যার আর শেষ নেই। চিন্তা করবেন না, সমস্যা থাকলে, সমাধানও অবশ্যই রয়েছে।
গরমের কথা মাথায় রেখে কিছু জিনিস অভ্যাস করতে পারলে খুব ভাল। যেমন ধরুন সকালে উঠে গোসল করে, মুখে গোলাপ জল স্প্রে করতে পারেন। বাইরে বেরলেও সঙ্গে ক্যারি করুন। ত্বক ক্লান্ত লাগলে ফেস ওয়াইপ দিয়ে মুখ মুছে সামান্য গোলাপ জল স্প্রে করে নিন। ত্বক অনেক বেশি ফ্রেশ থাকবে।
একান্তই মেক-আপ করতে হলে চেষ্টা করুন, হালকা মেক-আপ করতে। একগাদা প্রডাক্ট স্কিনের ওপর লেয়ার আপ করলে, ঘামে নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও বেশি। একদম হালকা বেস, পাউডার, কাজল এবং লিপস্টিক, এই ক’টা জিনিসই এই সময় সঙ্গী করুন।
সারাদিন পর বাড়ি এসে ক্লান্ত শরীর নিয়ে রূপচর্চা কেন, কোনও কাজই ভাল লাগে না। প্রতিদিন না হলেও, মাঝে মাঝে মিল্ক ফুট সোক ট্রাই করুন। উষ্ণ গরম পানিতে দুধ মিশিয়ে পা ডুবিয়ে রাখুন। শরীরের ক্লান্তিও দূর হবে এবং শরীরও ঠান্ডা থাকবে। গোসলের সময় প্রতিদিন স্ক্রাবিং কিন্তু মাস্ট।
অনেকেরই হয়তো অজানা, যে আপনার ত্বক প্রতিদিন প্রচুর মৃত কোষ সৃষ্টি করে। স্ক্রাবিং না করলে, সেগুলো ত্বকের উপরের স্তরে জমা হবে। ফলে ত্বক শুষ্ক এবং নির্জীব দেখায়। যতই লোশন বা ময়শ্চারাইজ়ার ব্যবহার করুন না কেন, ত্বকে কোনও পরিবর্তনই দেখা যায় না। গোসলের সময় সপ্তাহে ২-৩ দিন নিয়ম করে স্ক্রাব ব্যবহার করলে, এই সমস্যা হবে না। তবে ত্বকের উপর খুব জোড়ে ঘষবেন না। স্ক্রাবিং করতে না চাইলে, ড্রাই ব্রাশিং করতে পারেন।
অনেকে মনে করেন, বডি লোশন শুধুমাত্র শীতকালের জন্যই। গরম কালেও কিন্তু ত্বকের প্রপার ময়শ্চারাইজ়েশন প্রয়োজন। তবে শীতকালীন হেভি লোশন ব্যবহার করবেন না। গোসলের পরই সামার ফ্রেন্ডলি লাইট লোশন ব্যবহার করুন।
বছরের পর বছর একই সানস্ক্রিন ব্যবহার করবেন না। আমরা প্রত্যেকেই সানস্ক্রিন কিনি, কিন্তু পর্যাপ্ত পরিমাণে ব্যবহার না করার ফলে, সময়ের মধ্যে শেষ করতে না পারলে তা জমিয়ে রেখে দিই। আপনার পুরো মুখ এবং গলার জন্য এক চা-চামচ সানস্ক্রিন এবং পুরো শরীরের জন্য ৩ টেবলচামচ সানস্ক্রিন প্রয়োজন। কিন্তু আমরা কেউই সেই পরিমাণে সানস্ক্রিন ব্যবহার করি না, এবং স্বাভাবিকভাবেই ট্যানিংও পিছু ছাড়ে না। এই অভ্যাস পাল্টান। ট্যানিং থেকে বাঁচতে পর্যাপ্ত পরিমাণে সানস্ক্রিন (অন্তত এসপিএফ ৩০) ব্যবহার না করলে, লাভ কিছুই হবে না। চেষ্টা করুন পুরনো প্রডাক্ট না ব্যবহার করতে।