যাপিত জীবন ডেস্ক
প্রকাশ : ১৯ অক্টোবর ২০২২ ১৪:৪৪ পিএম
আপডেট : ১৯ অক্টোবর ২০২২ ২০:৩০ পিএম
শহরের অলিতে-গলিতে এখন রেস্তোরাঁ। কিন্তু সবই যেন ঘুরেফিরে ব্যস্ততার গল্পই শোনায়। কোথাও গিয়ে আয়েশ করে বসে আড্ডা, গল্প, গানে মেতে ওঠা কিংবা এসবের ফাঁকে মুখরোচক সান্ধ্যকালীন কোনো খাবারের স্বাদ নেওয়ার সুযোগ যেন হারিয়ে যাচ্ছে রেস্তোরাঁ গল্পের পাতা থেকে। রেস্তোরাঁগুলোতে এখন কেবল যাও-খাও-ফিরে আসো—এ চক্রই চলমান। এ চক্রের তাল ভেঙেছে উত্তরায় অবস্থিত ঢাকার উত্তরায় ‘রাগা আর্ট ক্যাফে’।
এখানে সবুজ চারপাশ, ওপরে খোলা আকাশ—প্রকৃতির গল্প বলে যেন। কেউ না চাইলে খাবার না খেলেও রেস্তোরাঁর খাবার পরিবেশনকারী এসে বিরক্ত করবে না। চাইলে এখানের বিভিন্ন আর্টপিস দেখেই সময় কাটাতে পারেন। এটা শুধু ক্যাফেই না বরং যান্ত্রিক শহরে একটুখানি অবসর যাপনের জায়গা। খোলা আকাশের নিচে একটুখানি সবুজঘেরা আঙিনা, ধোঁয়া ওঠা এক মগ কফি আর প্রিয় কোনো বই—শরতের বিকালটা সুন্দর করে তুলতে এর বেশি আর কী চাই। ইট পাথরের এ শহরটাতে এমন সুন্দর বিকাল কাটানোর কথা ভাবতে পারছেন না যারা, তারা কিন্তু অবসর সময়ে ঢু মারতে পারেন।

রাগা আর্ট ক্যাফের প্রতিষ্ঠাতা সাইফুল হক অমি জানান, এটা মূলত ‘কাউন্টার ফটো’র স্টুডিও ছিল। দীর্ঘসময় এখানে আমরা ক্লাস নিতাম। কখনোবা বাইরের লোকজন এলে তাদের থাকার ব্যবস্থাও করা হতো। করোনার পর পরিস্থিতি বদলে যায়। তখন আমরা চিন্তা করলাম আমাদের এই স্টুডিওটা মিরপুরের মূল ক্যাম্পাসে স্থানান্তর করতে পারলে জায়গাটি আমরা ব্যবহার করতে পারি, যা আয়ের উৎস তৈরি করবে। সে সময় আমাদের ভাবনায় এলো এমন ধরনের আর্ট ক্যাফে তৈরি করার। যে ক্যাফেটা শুধুমাত্র খাওয়ার জায়গা হবে এমনটা না, বরং এখানে কেউ যদি কিছু না-ও খায় তবু আসতে পারে, সময় কাটাতে পারে, আড্ডা দিতে পারে। এমনকি শিল্পানুরাগী যে কেউ এসে নানারকম আর্টপিস দেখে সময় উপভোগ করতে পারে। শহরের মাঝখানে খোলা আকাশ যাতে দেখা যায়, এমন একটি ভাবনা থেকেই ক্যাফে রাগার জন্ম।
কিছুদিন আগেই রাগা আর্ট ক্যাফের আয়োজনে প্রথম আর্ট ফেয়ার অনুষ্ঠিত হয়েছিল। বেশ ভালো রকম সাড়া পেয়েছিলেন বলেই জানান সংশ্লিষ্টরা। আসছে নভেম্বরে পরবর্তী আয়োজনের কথাও জানিয়েছেন তারা। সেই তালিকায় রয়েছে চলচ্চিত্র উৎসব, চিত্রকলা উৎসব, স্টেক ফেস্টিভ্যালের মতো ভিন্ন ঘরানার আয়োজন।
প্রবা/আশা/এমজে