প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৭ এপ্রিল ২০২৩ ১৪:২৭ পিএম
আপডেট : ১৭ এপ্রিল ২০২৩ ১৪:৫৪ পিএম
শসার গুণের কথা কমবেশি আমরা সবাই জানি। শুধু শরীর নয়, ত্বকের নানা সমস্যায় শসা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শসার কিছু উপকারিতা জেনে নিনÑ
পানিশূন্যতা দূর করতে : শসার প্রায় ৯৫ শতাংশই পানি। ফলে এটি শরীর ঠান্ডা রাখে ও ডিটক্স করতে সাহায্য করে। যার কারণে শরীরে পানিশূন্যতার ঝুঁকি কমায়।
দেহের ভেতর-বাইরের তাপ শোষক : কখনও কখনও শরীরের ভেতর ও বাইরে প্রচণ্ড উত্তাপ অনুভূত হয়। এমনকি দেহে জ্বালাপোড়া করে। এ অবস্থায় একটি শসা খেলে উপকার পাওয়া যায়।
বিষাক্ততা দূর করে : শসার মধ্যে যে পানি থাকে তা দেহের বর্জ্য ও বিষাক্ত পদার্থ অপসারণে সহায়তা করে। নিয়মিত শসা খাওয়ায় কিডনিতে সৃষ্ট পাথরও গলে যায়।
প্রতিদিনকার ভিটামিনের শূন্যতা পূরণে : প্রতিদিন আমাদের দেহে যেসব ভিটামিনের দরকার হয় তার বেশিরভাগই শসার মধ্যে বিদ্যমান। ভিটামিন এ, বি ও সি আমাদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা ও শক্তি বাড়ায়। সবুজ শাক ও গাজরের সঙ্গে শসা পিষে রস করে খেলে এ তিন ধরনের ভিটামিনের ঘাটতি পূরণ হবে।
হজম ও ওজন হ্রাসে সহায়ক : শসায় উচ্চমাত্রায় পানি ও নিম্নমাত্রার ক্যালরিযুক্ত উপাদান রয়েছে। ফলে দেহের ওজন কমাতে শস কার্যকর ভূমিকা রাখে। এ ছাড়া কাঁচা শসা চিবিয়ে খেলে তা হজমে বড় ধরনের ভূমিকা রাখে। নিয়মিত শসা খেলে দীর্ঘমেয়াদি কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়।
চোখের জ্যোতি বাড়ায় : সৌন্দর্যচর্চার অংশ হিসেবে অনেকে শসা গোল করে কেটে চোখের পাতায় বসিয়ে রাখেন। এতে চোখের পাতায় জমে থাকা ময়লা যেমন অপসারিত হয়, তেমনি চোখের জ্যোতি বাড়াতেও কাজ করে। চোখের প্রদাহ প্রতিরোধক উপাদান প্রচুর পরিমাণে থাকায় ছানি পড়া ঠেকাতেও এটি কাজ করে।
ক্যানসার প্রতিরোধে : শসায় সিকোইসোলারিসিরেসিনোল, ল্যারিসিরেসিনোল ও পিনোরেসিনোল—এ তিনটি আয়ুর্বেদিক উপাদান আছে। জরায়ু, স্তন, মূত্রগ্রন্থিসহ বিভিন্ন স্থানে ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি কমানোর সঙ্গে এ তিন উপাদানের জোরালো সম্পর্ক রয়েছে।
চুল ও নখ সতেজ করে : শসার মধ্যে যে খনিজ সিলিকা থাকে তা আমাদের চুল ও নখকে সতেজ ও শক্তিশালী করে তোলে। এ ছাড়া শসার সালফার ও সিলিকা চুলের বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
গেঁটেবাত থেকে মুক্তি : শসায় প্রচুর পরিমাণে সিলিকা আছে। গাজরের রসের সঙ্গে শসার রস মিশিয়ে খেলে দেহের ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা নেমে আসে। এতে গেঁটেবাতের ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
ত্বকের যত্নে : শসার ভিটামিন বি-নায়াসিন, রাইবোফ্লাভিন, ভিটামিন সি এবং জিঙ্ক রক্ষা করে ত্বকের উজ্জ্বলতা। ফেয়ারনেস ক্রিমের বদলে রোজ ডায়েটে শসা রাখুন, ত্বক এমনিই ভালো থাকবে। এ ছাড়া রোদ থেকে ঘরে ফিরে মুখে শসার রস লাগাতে পারেন। এত ত্বকের রোদে পোড়া ভাব দূর হবে। এটি ত্বক পরিষ্কার করতেও সহায়তা করে।