× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

অন্দরসজ্জা

খোলামেলা রান্নাঘর

নাজমুল হক ইমন

প্রকাশ : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১৩:০৫ পিএম

খোলামেলা রান্নাঘর

একটা বাড়ি তৈরির সময় সব সময় গুরুত্ব পায় রান্নাঘর। সেই আদিকাল থেকেই রান্নাঘরটির কোন দিকে কী থাকবে, সেটা বাস্তু মেনে নির্ধারণ করতেন বাড়ির বাসিন্দারা। সময় বদলেছে। এখন আর ওভাবে অনেকে ভাবেন না। তবে বাড়ির খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা অংশ এই রান্নাঘর। তা মানতেই হবে। গ্রামাঞ্চলে এখনও রান্নাঘর পুরোপুরি আলাদা করারই চল। আর শহুরে জীবনে ফ্ল্যাটের একপাশে ছোট্ট একচিলতে রান্নাঘরই সই। আবার সেই গতানুগতিক ধারা থেকে বেরিয়ে এখন কেউ কেউ ঝুঁকছেন ওপেন কিচেনের দিকে। ওপেন কিচেনের ধারণাটা মূলত পশ্চিমা দেশগুলো থেকেই এসেছে।

ওপেন কিচেন বা খোলা রান্নাঘর নিয়ে অনেক নতুন নতুন কাজ করছেন ইন্টেরিয়র ডিজাইনাররা। তবে তার জন্য প্রথমেই দেখতে হবে বাসায় যথেষ্ট জায়গা আছে কি-না। বড় জায়গা থাকলে ছড়ানো-ছিটানো জিনিসগুলো সেন্ট্রালাইজ করতে সুবিধা হয়। তাহলে রান্নাঘরের সঙ্গে আলাদা স্টোর রুম করা যায়। সেখানে কিচেনের জরুরি আনুষঙ্গিক জিনিসগুলো  খুব সহজে রাখতে পারেন। যদি ফ্ল্যাটে জায়গা বড় না হয়, তবে ওপেন কিচেন না করার পরামর্শ দেন ইন্টেরিয়র ডিজাইনারেরা। ওপেন কিচেনের আরও একটা অসুবিধা রয়েছে, তা হলো তাপমাত্রা। ছোট বাসায় চুলা জ্বালালেই ঘর গরম হয়ে পড়ে। বড় বাড়িতে ভেন্টিলেশন ভালো থাকে। ফলে ভেতরের আবহাওয়া মোটামুটি ঠিক থাকে। তবে এই সমস্যার সমাধান হলো বাসায় সেন্ট্রাল এসি লাগানো। তা না হলে শখের বশে করা ওপেন কিচেন পরে ভুল সিদ্ধান্তই মনে হবে। এ ছাড়া পাশ্চাত্যের ধারণা নিয়ে এখন আমাদের দেশেও অনেক বাড়ি কিংবা ফ্ল্যাটে তৈরি হচ্ছে ওপেন কিচেনের। এটি মূলত বসার ঘর বা খাবার ঘরের সঙ্গে লাগোয়া খোলামেলা রান্নাঘর। তাই এধরনের রান্নাঘর যে কেউ চাইলে করতে পারেন না।

আমাদের খাবারের রান্নার কৌশল পাশ্চাত্যের থেকে অনেকটাই ভিন্ন। রান্নায় তেল এবং মসলার ব্যবহার  বেশি হয়। ফলে খুব দ্রুতই রান্নাঘর হয়ে পড়ে তেল চিটচিটে। বিশেষ করে রান্নাঘরের জানালার কাচ, গ্রিল ও সিলিং। কোনো কোনো ক্ষেত্রে রান্নাঘরের দেয়ালও নষ্ট হয়ে যায়। যেহেতু আমাদের রান্নার প্রণালি ভিন্ন, সে কারণে রান্নাঘর তো বটেই, তার সঙ্গে লাগোয়া বা কাছাকাছি থাকা অন্য ঘরগুলোও দ্রুত নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। খোলামেলা পরিসরের রান্নাঘর সাজসজ্জার সময় কিছু বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি।

কিচেনে কী কী সংযুক্ত করবেন

পানির কল, টুল, এক্সহস্ট ফ্যান, স্টোরেজের মতো মৌলিক উপাদানগুলো ছাড়া সৌন্দর্যবর্ধনে কিচেনে উন্মুক্ত জায়গা অনুযায়ী বিভিন্ন উপাদান সংযোজন করুন। যেমনÑ কিচেন আইল্যান্ড, ব্রেকফাস্ট বার, রেঞ্জ কুকার, স্টাইলিশ ফ্রিজার ইত্যাদি। তবে হ্যাঁ, একটি ওপেন কিচেন ডিজাইনিংয়ের প্রধান লক্ষ্য থাকতে হবে এর সৌন্দর্য। তাই খেয়াল রাখবেন অতিরিক্ত উপাদান যোগ করে জায়গাটা হিজিবিজি যেন না হয়ে যায়। আপনার রুচি ও সাধ্য অনুসারে যে নকশা ধরেই এগোন না কেন, ওপেন কিচেন যেন একটু খোলামেলা থাকে। তা না হলে ওপেন কিচেনের মূল উদ্দেশ্যই বিফল হবে।

ওপেন কিচেনের জন্য কী করবেন

  • সাধারণত ওপেন কিচেনের অবস্থান খাবার ঘরের সঙ্গে হলেই ভালো হয়। এ জন্য ন্যূনতম ১০০ বর্গফুট জায়গা প্রয়োজন।
  • খুব বেশি ঝোল ও মসলাদার খাবার রান্না না করাই ভালো। অতিরিক্ত তেল-মসলার ঝাঁজ ঘরে ছড়িয়ে পড়ে, যা পরিষ্কার করা সম্ভব হয় না। শুধু হালকা রান্নার জন্য ওপেন কিচেন ব্যবহার করতে হবে।
  • এ ধরনের রান্নাঘরে অবশ্যই কিচেন হুড বা চিমনির ব্যবস্থা রাখতে হবে। অন্যথায় পুরো ঘর ধোঁয়াচ্ছন্ন হয়ে যাবে। তাছাড়া সঙ্গে তেল চিটচিটেও হয়ে যাবে খুব দ্রুত।
  • খোলামেলা পরিসরের রান্নাঘরে খুব বেশি আসবাব রাখার দরকার নেই।
  • আসবাবে গাঢ় রঙের ব্যবহার করুন, তাতে ময়লা কম হবে।
  • রান্নাঘরের আসবাব থেকে খাবার বা মসলার পাত্রগুলো যাতে দৃষ্টিনন্দন হয়, সেদিকে বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে।
  • এ ধরনের রান্নাঘরে খুব বেশি খোলা তাকের প্রয়োজন নেই। তবে ওয়াল ক্যাবিনেট ব্যবহার করা যেতে পারে।
  • রান্নাঘরে কাপড়ের পর্দা ব্যবহার না করে এর পরিবর্তে বাঁশের চিক, না হলে ভার্টিক্যাল ব্লাইন্ড ব্যবহার করা যেতে পারে। এ ছাড়া সাধারণ আলোকসজ্জার বাইরে বিশেষ বিশেষ জায়গাকে ফোকাস করে ব্যবহার করা যেতে পারে স্পট লাইট।

ওপেন কিচেনের পরিচ্ছন্নতা

  • রান্না করার আগে প্রতিটি বাসন আর একবার ধুয়ে নিন। একই সময়ে সিংক পরিষ্কার করে নিন।
  • ছুরি, চামচ প্রভৃতি একবার গরম পানিতে ডুবিয়ে ধুয়ে নিন।
  • সবজি কাটার বোর্ড পরিষ্কার পানিতে ধুয়ে কাপড় দিয়ে মুছে নিন।
  • গ্যাসের আশপাশে ছড়িয়ে থাকা খাবারের টুকরো পরিষ্কার করুন। পানি বা অন্য তরল পড়ে থাকলে ভালো করে মুছে পরিষ্কার করে, রান্না শুরু করুন।
  • ডাস্টবিন দিনে একবার পরিষ্কার করুন। ডিসইনফেকট্যান্ট দিয়ে ধুয়ে প্রতিদিন ব্যবহার শুরু করুন।
  • মাইক্রোওয়েভ, মিক্সি প্রতিদিন পরিষ্কার করুন, যাতে খাবার জিনিস লেগে না থাকে।

  • মসলাপাতি রাখার কৌটো প্রত্যেক ১৫ দিন অন্তর পরিষ্কার করুন।
শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা