যাপিত জীবন ডেস্ক
প্রকাশ : ২৪ আগস্ট ২০২২ ১২:২৭ পিএম
আপডেট : ২৪ আগস্ট ২০২২ ১২:৩৮ পিএম
খুব সহজেই রেগে যায় আপনার ছোট্ট শিশুটি। এ নিয়ে কম-বেশি সব বাবা-মা-ই চিন্তায় থাকেন। অনেকে ভাবেন মনোবিদের কাছে নিয়ে যাবেন কি না? তবে সব সময় যে শিশুকে মনোবিদের কাছে নিয়ে যেতে হবে, এমন নয়। খুব বাড়াবাড়ি পরিস্থিতি না হলে তো নয়ই।
তবে মনোবিদের কাছ থেকে তাদের কিছু বিষয় বুঝে নিলে ভালো। যেমন, কেন বাচ্চা এ রকম করে, কী করলে তার রাগ ও খিটখিটে ভাব কমবে। আর সে যখন রেগে যাবে কীভাবে তাকে সামলাতে হবে।
মনোবিদের পরামর্শ
ড. আমিনুল ইসলাম শাওনের মতে, শিশুর রাগ খুব সাধারণ একটি ব্যপার। তাদের চাহিদা না মিটলেই বিরক্তি বা রাগ হয়। এটা কারও কম, কারও বেশি। আবার কারও খুব বেশি। কেউ রাগ সামলে নিতে পারেন, কেউ পারেন না। মারাত্মক রাগী হলে বেশির ভাগ সময়ই বাবা-মা সামলাতে পারেন না। ফলে খুব খারাপ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এই রাগের মূলে মানুষটির ব্যক্তিত্বের যেমন ভূমিকা আছে, তেমনি ভূমিকা আছে পারিপার্শ্বিকেরও। বাবা-মা, পরিবার, বন্ধু, সিনেমা, টিভি, থিয়েটার, সামাজিক মাধ্যমে রাগের, ভায়োলেন্সের যে বহিঃপ্রকাশ দেখে শিশু, যে যে কারণে মানুষকে রেগে ফাটাফাটি করতে দেখে, সেও সেভাবেই গড়ে ওঠে। কাজেই বাবা-মাকে সতর্ক থাকা দরকার। সন্তান কেন কথায় কথায় রেগে যাচ্ছে, তা বুঝে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।
কথা বলুন বুঝেশুনে
বাচ্চার ব্যবহার শোধরাতে চাইলে আগে নিজেকে শোধরান। রেগে চেঁচামেচি, ফাটাফাটি করবেন না। নিতান্ত মতবিরোধের কথা হলেও উত্তর দিন যথাসম্ভব নম্রভাবে। যদি মনে করেন, পেরে উঠবেন না, তখনকার মতো কথা বন্ধ করে মাথা ঠাণ্ডা না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। বা সন্তানের অনুপস্থিতিতে রাগারাগি করুন। সন্তান যদি দেখে নিতান্ত রাগের পরিস্থিতিতেও আপনারা সৌজন্য বজায় রেখে চলতে পারছেন, এটাই তার ব্যবহারের অঙ্গ হয়ে যাবে। জীবনের প্রতি পদক্ষেপে সে ভদ্রতা বজায় রেখে চলতে শিখবে।
সামাজিক মাধ্যমের ব্যবহার
টিভিতে মারামারি-কাটাকাটির অনুষ্ঠান দেখা বন্ধ করুন। যেসব অনুষ্ঠানে খুব বেশি চেঁচামেচি হয়, খুব খারাপভাবে একে অপরের দিকে আঙুল তোলে, সেসব বয়কট করুন। সামাজিক মাধ্যমের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। মোট কথা রাগের খুব খারাপ বহিঃপ্রকাশের সাক্ষী যেন সে না হয়। মনে রাখতে হবে শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশ কিন্তু এই বয়সেই প্রায় পূর্ণতা পেয়ে যায়, এই সময় সে যা শেখে তারই রেশ থেকে যায় জীবনভর। কাজেই সাবধান থাকা দরকার।
অযৌক্তিক দাবি মানবেন না
অনেক শিশু বাচ্চা দেখা যায় চাহিদা না মিটলে কেঁদে ফেটে পড়ে। আরেকটু বড় হলে মারামারি, ভাঙচুর করে। কারণ তারা জানে এভাবেই তাদের দাবিপূরণ হওয়া সম্ভব। এভাবে ভাবার সুযোগই দেবেন না তাকে। যা সে পেতে পারে তা একবার চাইলেই দিয়ে দিন। যা দেওয়া যাবে না, তা কোনোভাবেই দেবেন না। তবে তা যেন আপনার জেদের বহিঃপ্রকাশ না হয়। একবারের জায়গায় দশবার বুঝিয়ে বলুন কেন সে জিনিসটি তার প্রাপ্য নয়। তার মতও শুনুন। এবং যা ন্যায্য তাই করুন। এতে তার মনে অযৌক্তিক চাহিদা জন্মাবে না। ফলে রাগ হওয়ারও সুযোগ থাকবে না।
রাগ জেনেটিক হলেও ক্ষতি নেই
হয়তো পরিবারের ধারা মেনেই সন্তানের রাগ বেশি। কিন্তু ভয় পাবেন না। আপনারা যদি নিজেদের সংযত রাখতে পারেন, সেও সেটাই শিখবে এবং বড় কোনো বিপদ হবে না।
রেগে গেলে কী করবেন?
খেলনা দিয়ে ভোলাতে পারেন। সে ভালোবাসে এমন খেলনা দিন। কিছু শিশু আছে রাগ হলে চুপ থাকে বা এক ঘরে বসে থাকে, তাকে সেভাবেই কিছুক্ষণ থাকতে দিন। একেবারে ছোট বয়স থেকে তাকে নানারকম গল্প পড়ে শোনান। এতে বিভিন্ন বিষয়ে তার জ্ঞান যেমন বাড়বে, গল্প শোনার আগ্রহও তৈরি হবে। রাগের সময় সে সবও কাজে আসতে পারে।
/এসআর