প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫:৫৬ পিএম
আপডেট : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৬:১৯ পিএম
শেফ জাহেদ।ছবি: সংগৃহীত
রান্না এখন আর কেবল ক্ষুধা মেটানোর মাধ্যম নয়, এটি একটি শৈল্পিক সাধনা এবং বিশ্বব্যাপী কয়েক বিলিয়ন ডলারের শিল্প। আন্তর্জাতিক এই অঙ্গনে বাংলাদেশের তরুণদের প্রতিভা অনস্বীকার্য হলেও সঠিক দিকনির্দেশনা এবং বৈশ্বিক মানদণ্ডের অভাবে অনেকেই পিছিয়ে ছিলেন। সেই অভাব পূরণে এবং বাংলাদেশের তরুণদের আন্তর্জাতিক মানের পেশাদার শেফ হিসেবে গড়ে তুলতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন স্বপ্নদ্রষ্টা শেফ জাহেদ।
নিজের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা দিয়ে তিনি কেবল খাবারই তৈরি করছেন না, বরং তৈরি করছেন হাজারো দক্ষ কারিগর। তার এই উদ্যোগ বাংলাদেশের কালিনারি সেক্টরে এক নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে।
রন্ধনশিল্পের গ্লোবাল স্ট্যান্ডার্ডে দক্ষতা অর্জন করতে হলে অনেক সময় ইংরেজি বা বিদেশি ভাষার ওপর নির্ভর করতে হয়। বাংলা ভাষায় এখন পর্যন্ত তেমন রিসোর্স নেই বললেই চলে। এতে অনেক প্রতিভাবান বাঙালি তরুণ পিছিয়ে পড়েন। শেফ জাহেদ এই প্রথা ভেঙে ফ্রেঞ্চ কুইজিনের অত্যন্ত জটিল এবং কালিনার ওয়ার্ল্ডের ইংলিশ কারিগরি বিষয়গুলো সহজবোধ্য বাংলায় বুঝিয়ে দিচ্ছেন।
একজন মেন্টর হিসেবে তিনি সোশ্যাল মিডিয়া এবং বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে তরুণদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন।তার নিজের নামে রয়েছে নিজের ইউটিউব চ্যানেল যেখানে তিনি কিচেনের শৃঙ্খলা থেকে শুরু করে ফুড সেফটি, হাইজিন এবং আন্তর্জাতিক রেসিপি—সবই তিনি তুলে ধরছেন দেশীয় প্রেক্ষাপটে। তার সহজ উপস্থাপন রন্ধনশিল্পকে সাধারণ মানুষের কাছে একটি সম্মানজনক পেশা হিসেবে জনপ্রিয় করে তুলছে।

শেফ জাহেদের রান্নার দর্শনে একটি চমৎকার ভারসাম্য লক্ষ্য করা যায়। তিনি বাংলাদেশের স্থানীয় সহজলভ্য উপকরণের সাথে আন্তর্জাতিক রান্নার শৈলী মিশ্রণ বা 'ফিউশন' করতে পারদর্শী। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য এবং আইরিশ রন্ধনশৈলী নিয়ে তার ব্যাপক কাজ রয়েছে।
যেমন- আয়ারল্যান্ডের রান্নার বিশেষত্ব হলো উপকরণের সতেজতা ও রান্নার সরলতা। শেফ জাহেদ সেই আইরিশ টেকনিক ব্যবহার করে বাংলাদেশি সবজি বা মাংসকে কীভাবে আন্তর্জাতিক মানের স্টু বা রোস্টে রূপান্তর করা যায়, তা হাতেকলমে দেখাচ্ছেন।
অ্যারাবিয়ান খাবারের আভিজাত্য ও মশলার সুনিপুণ ব্যবহারকে তিনি দেশীয় স্বাদের সাথে এমনভাবে যুক্ত করছেন, যা একইসাথে নতুন এবং রুচিসম্মত।
শেফ জাহেদ বিশ্বাস করেন, একজন পেশাদার শেফ হতে হলে কেবল সুস্বাদু রান্না জানাই যথেষ্ট নয়। এর জন্য প্রয়োজন 'কিচেন এটিকেট' বা রান্নাঘরের শিষ্টাচার। তিনি তরুণদের গাইড করছেন:
* টাইম ম্যানেজমেন্ট: কীভাবে ব্যস্ত সময়েও খাবারের মান বজায় রাখা যায়।
* কস্ট কন্ট্রোল: উপকরণের অপচয় রোধ করে লাভজনকভাবে কিচেন পরিচালনা করা।
* প্লেটিং আর্ট: "আগে দর্শনধারী, তারপর গুণবিচারী"—এই নীতি মেনে খাবারকে শৈল্পিক উপায়ে পরিবেশন করা।
শেফ জাহেদের মূল লক্ষ্য হলো একটি ‘কালিনারি ব্রিজ’ তৈরি করা। তিনি চান বাংলাদেশের তরুণরা যখন মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ বা আমেরিকার বড় বড় চেইন হোটেলগুলোতে কাজ করতে যাবে, তারা যেন শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী থাকে। তার দিকনির্দেশনায় তৈরি হওয়া শেফরা কেবল রান্না করবেন না, বরং রান্নাঘর পরিচালনা করবেন এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন।
শেফ জাহেদ কেবল একজন ব্যক্তি নন, তিনি বর্তমান প্রজন্মের কাছে একটি অনুপ্রেরণার নাম। তার হাত ধরে বাংলাদেশের কালিনারি সেক্টর যে গতিতে এগোচ্ছে, তাতে অদূর ভবিষ্যতে বিশ্বসেরা শেফদের তালিকায় আমাদের দেশের নাম উজ্জ্বল হয়ে উঠবে—এমনটাই প্রত্যাশা সকলের। এই বছর তার লিখা বই আসবে বাজারের। রন্ধনশিল্পের এই নীরব বিপ্লব কেবল অর্থনীতিতেই অবদান রাখবে না, বরং বিশ্বদরবারে বাংলা ও বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও খাদ্য ঐতিহ্যকে নতুনভাবে পরিচিত করাবে।
বইটি পড়লে যে কেউ বুঝতে পারবে "রান্না হলো ভালোবাসা এবং বিজ্ঞানের মিশ্রণ। যদি আপনি মৌলিক বিজ্ঞানটা বুঝতে পারেন, তবে যেকোনো দেশের খাবার আপনি নিজের করে নিতে পারবেন।"
কেন তার উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ?
* বেকারত্ব দূরীকরণে সহায়ক ভূমিকা
* দক্ষ জনশক্তি রপ্তানিতে প্রভাব
* দেশীয় খাদ্যপণ্যের বৈশ্বিক প্রচার
* বাংলাদেশি খাবারকে বিশ্বের সব জায়গায় ছড়িয়ে দেয়া