প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২২:৩৩ পিএম
ঈদের দিনটিতে তারুণ্যের প্রথম পছন্দ হিসেবে পাঞ্জাবি নিজের রাজকীয় স্থান ধরে রেখেছে। মডেল: বিপনু চৌধুরী
বাঙালি উৎসব আর পাঞ্জাবি হচ্ছে মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। বিশেষ করে ঈদের সকালে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে পাঞ্জাবির কলারটা ঠিক না করলে তরুণদের উৎসবের আমেজটাই যেন পূর্ণতা পায় না। সময়ের সাথে ফ্যাশনে হাজারো পশ্চিমা অনুষঙ্গ যুক্ত হলেও ঈদের দিনটিতে তারুণ্যের প্রথম পছন্দ হিসেবে পাঞ্জাবি নিজের রাজকীয় স্থান ধরে রেখেছে।
সময়ের বিবর্তন ও বৈচিত্র্য
আধুনিক তরুণরা এখন কেবল ঐতিহ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তারা চায় আভিজাত্য ও আরামের সমন্বয়। এবারের ঈদে তরুণদের পছন্দে জায়গা করে নিয়েছে স্লিম ফিট এবং সেমি-লং প্যাটার্নের পাঞ্জাবি। ফেব্রিকের ক্ষেত্রে সুতি বা লিনেন সবসময়ই জনপ্রিয়। তবে রাতের আড্ডার জন্য অনেকেই তসর সিল্ক বা আর্ট সিল্ক বেছে নিচ্ছেন।
হালকা রঙের আভিজাত্য এখন ট্রেন্ডে থাকলেও, ডার্ক মেরুন, নেভি ব্লু বা ফরেস্ট গ্রিনের মতো গাঢ় রঙের চাহিদা সবসময়ই তুঙ্গে।
কারুকাজ ও আধুনিক
পাঞ্জাবির ডিজাইনে এখন ‘মিনিমালিজম’ বা স্বল্প কারুকাজের জয়জয়কার। গলার কলার কিংবা প্লেটে সূক্ষ্ম এমব্রয়ডারি, হাতের কাজ বা মেটাল বাটনের ব্যবহার পাঞ্জাবিতে যোগ করছে আধুনিক টুইস্ট। অনেকে আবার ডিজিটাল প্রিন্ট কিংবা টাই-ডাই করা পাঞ্জাবিতে খুঁজে নিচ্ছেন নিজের ব্যক্তিত্ব।
পাঞ্জাবি শুধু একটি পোশাক নয়। এটি বাঙালির আত্মপরিচয় এবং উৎসবের আবেগের এক শৈল্পিক বহিঃপ্রকাশ। তারুণ্যের কাছে পাঞ্জাবি পছন্দের মূল কারণ এর স্বাচ্ছন্দ্য এবং স্মার্ট লুক। একটি সুন্দর ফিটিংয়ের পাঞ্জাবির সাথে ম্যাচিং পাজামা বা জিন্স আর পায়ে এক জোড়া নাগরা বা চামড়ার চটি। ব্যস! উৎসবের পূর্ণতা পেতে আর কিছুর প্রয়োজন হয় না।
সব মিলিয়ে ঈদের সকালে নামাজের কাতার থেকে শুরু করে বন্ধুদের সাথে আড্ডা পর্যন্ত পাঞ্জাবিই হলো তরুণ প্রজন্মের আস্থার শেষ ঠিকানা। ঐতিহ্য আর আধুনিকতার এই মেলবন্ধনই পাঞ্জাবিকে করেছে ঈদ ফ্যাশনের অবিচ্ছেদ্য অংশ।