প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১২:৫৪ পিএম
রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত কালশী বস্তিতে নারী ও কিশোরীদের জন্য মাসিক বান্ধব টয়লেট ও গোসলখানা নির্মান করেছে ঋতু হেলথ অ্যান্ড ওয়েল-বিয়িং ফাউন্ডেশন। গত ৭ ফেব্রুয়ারি নারী ও কিশোরীদের ব্যবহারের জন্য উম্নুক্ত করে দেয়া হয় এই টয়লেট ও গোসলখানাগুলো।এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঋতু হেলথ অ্যান্ড ওয়েল-বিয়িং ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা শারমিন কবীর।
কালশী বস্তিতে ঋতু দীর্ঘ চার বছর যাবত কমিউনিটিতে কাজ করছে। এখন অব্দি মোট ৬৬টি টয়লেট ও ৩৩টি গোসলখানা পুনঃনির্মাণ করা হয়েছে। এবার তার চতুর্থ ফেজের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। বস্তিকে একটি গ্রামে রূপান্তর করা এই কার্যক্রমের উদ্দেশ্য বলে উল্লেখ করেন প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা। গ্রামে যেমন একটি টয়লেট ও গোসলখানা অনেকেই মিলে একসাথে ব্যবহার করা হয় এবং রক্ষনাবেক্ষণের দায়িত্বও তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয়, তেমনি বস্তিতে যেহেতু জায়গার সংকট রয়েছে, কয়েকটা পরিবার যাতে একসাথে একটি কমন টয়লেট ও গোসলখানা ব্যবহার করতে পারে এমন উদ্দেশ্য নিয়েই এগুলো নির্মাণ করা হয়েছে। উল্লেখ্য ঋতুর টয়লেট পুনঃ নির্মাণের আগে এখানকার টয়লেট ও গোসলখানাগুলো ব্যবহার উপযোগী ছিল না বললেই চলে। দিনের বেলাতেও নারী ও কিশোরীদের জন্য এগুলো নিরাপদ ছিল না যথেষ্ট বেড়া বা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না থাকায়। বেশীরভাগ নারী ও কিশোরী রাতের বেলা মাসিকের সময় টয়লেটে যেত না কারণ তারা অনিরাপদ বোধ করতো প্রায় খোলা টয়লেট ব্যবহার করতে।

টয়লেট নির্মাণ ছাড়াও বিভিন্ন সময় কমিউনিটির নারী, পুরুষ ও কিশোর-কিশোরীদের নিয়ে মাসিক সচেতনতামূলক সেশন, লিঙ্গ সমতা ও তাদের মর্যাদা ও অধিকার নিয়ে বিভিন্ন ধরনের সেশন পরিচালনা করা হয়েছে। এছাড়াও বস্তির নারী ও কিশোরীদের জন্য স্কিল ডেভলপমেন্ট প্রোগ্রাম করা হয়েছে যেখানে বেসিক সেলাই প্রশিক্ষণসহ রিইউজেবল স্যানিটারি ন্যাপকিন তৈরি শেখানো হয়েছে। এই প্রশিক্ষণগুলোতে অংশ নেওয়া নারী ও কিশোরীরা তাদের নিজেদের উপার্জনের উপায় বের করতে পেরেছে এবং পরিবারের নিজেদের গ্রহণযোগ্যতাও বৃদ্ধি করতে পেরেছে বলে জানা যায়। এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সহযোগী হিসেবে আছে ঋতুর নিজস্ব দাতা।
দীর্ঘসময়ে কাজ করার ফলে বস্তির নারীদের মধ্যে মাসিক ভীতি অনেকটাই কমে গিয়েছে বলে ওখানকার নারী ও কিশোরীরা জানান। তারা জানান যে, আগে মাসিক হলে লুকিয়ে রাখার প্রবণতা ছিল তাদের মধ্যে। বড় কোনো সমস্যায় পড়লেও কাউকে বলার সাহস করতে পারতো না, তবে এখন পরিস্থিতি অনেকটাই বদলেছে। এখন মাসিক হলে মাসিকের কাপড় বাইরে রোদে শুকাতেও তাদের সংকোচ হয় না কারণ তারা জানে এই কাপড় স্বাস্থ্যকর না হলে সেই প্রভাব তাদের নিজেদের শরীরের উপর পড়তে পারে।

ঋতুর প্রতিষ্ঠাতা শারমিন কবীর বলেন, 'মিরপুর কালশির নারী ও কিশোরীদের জন্য এই প্রোজেক্টটি তাদের প্রজনন স্বাস্থ্য সেবায় অনেক গুরুত্বপুর্ণ ভূমিকা রাখছে। টয়লেট ও গোসলখানা নির্মাণে তাদের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা হয়েছে। আশেপাশের অন্য কমিউনিটির মানুষ তাদের সম্মানের চোখে দেখে। স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ তৈরি হওয়ায় এলাকার তরুণ-তরুণীরা বিয়ের সময় নেগোশিয়েশন করতে পারছে। টয়লেট ও গোসলখানা শুধুমাত্র কোনো কাঠামো না, এটা জীবনমান বদলে দেয়ার অনেক গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার যা আমরা এই প্রোজেক্ট থেকেই প্রমাণ পেয়েছি'।
ঋতু হেলথ অ্যান্ড ওয়েল-বিয়িং ফাউন্ডেশন (Wreetu) বাংলাদেশের একটি সামাজিক উদ্যোগ, যা নারী ও কিশোরীদের মাসিক স্বাস্থ্য শিক্ষা, স্যানিটারি ন্যাপকিন সরবরাহ এবং লিঙ্গ বৈষম্য দূরীকরণে কাজ করে। ২০১৬ সালে শারমিন কবীর কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি মাসিক স্বাস্থ্যবিধি বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, পরিবেশবান্ধব স্যানিটারি পণ্য সরবরাহ এবং মাসিক নিয়ে বিদ্যমান সামাজিক ট্যাবু ভাঙার লক্ষ্যে কাজ করছে। কমিক বই, সেমিনার ও পুনর্ব্যবহারযোগ্য স্যানিটারি ন্যাপকিন উৎপাদনের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি প্রান্তিক নারীদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি করে।