প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৫ অক্টোবর ২০২৫ ১৭:০৭ পিএম
লাইট অব হোপ ভেঞ্চারস’-এর এসএমই অ্যাক্সেলারেশন প্রোগ্রামের দ্বিতীয় ব্যাচের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী ও মেন্টররা
বাংলাদেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (এসএমই) উদ্ভাবন ও প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে এসএমই অ্যাক্সেলারেশন প্রোগ্রামের দ্বিতীয় ব্যাচের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করেছে ‘লাইট অব হোপ ভেঞ্চারস’। শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর লাইট অব হোপ অফিসে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী ও মেন্টরদের উপস্থিতিতে এ উদ্যোগের উদ্বোধন করা হয়। প্রোগ্রামটির লক্ষ্য হলো সম্ভাবনাময় স্থানীয় উদ্যোক্তাদের পরামর্শ, বিনিয়োগ ও বাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি করা।
ছয় মাস মেয়াদি এই অ্যাক্সেলারেশন প্রোগ্রামে অংশ নেবে এমন এসএমই ও স্টার্টআপ, যারা ইতিমধ্যে বাজারে কার্যক্রম চালাচ্ছে এবং এখন কৌশলগত নির্দেশনা ও অর্থায়নের মাধ্যমে পরবর্তী ধাপে উন্নীত হতে চায়। প্রোগ্রামে থাকছে থিমেটিক সেশন, ওয়ান-টু-ওয়ান মেন্টরিং, ইনভেস্টমেন্ট রেডিনেস প্রশিক্ষণসহ ব্র্যান্ডিং, বিপণন ও রপ্তানি উন্নয়নে বিশেষ সহায়তা।
অনুষ্ঠানে লাইট অব হোপ লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং ২০২৩ সালের জাতীয় এসএমই পুরস্কারপ্রাপ্ত ওয়ালীউল্লাহ ভূঁইয়া বলেন, “বাংলাদেশের কর্মসংস্থানের ৮৭ শতাংশ আসে এসএমই খাত থেকে, কিন্তু তারা মোট ব্যাংক ঋণের মাত্র ১২ শতাংশ পায়। লাইট অব হোপ ভেঞ্চারসের মাধ্যমে আমরা উদ্যোক্তাদের সেই পরামর্শ ও অর্থায়নের সংযোগ দিচ্ছি, যা তাদের ব্যবসাকে দশগুণ বাড়াতে এবং সারা দেশে কর্মসংস্থান তৈরি করতে সহায়তা করবে।”
এবারের মেন্টর প্যানেলে রয়েছেন ১০ মিনিট স্কুলের প্রধান নির্বাহী আয়মান সাদিক, শিখো’র সহপ্রতিষ্ঠাতা ও সিএফও শহীর চৌধুরী, সিরিয়াল টেক উদ্যোক্তা এম আসিফ রহমান, উইগ্রো’র প্রধান নির্বাহী মাহমুদ রহমান, অ্যাগ্রোশিফটের সিওও দীপ্ত সাহা, ডেটাসফট সিস্টেমসের চেয়ারম্যান এম মঞ্জুর মাহমুদ, টগুমগুর প্রধান নির্বাহী নাজমুল আরেফিন মোমেল, নেক্সট লিডার্সের প্রতিষ্ঠাতা ওমর শরীফ ইবনে হাই, শিখো’র সিওও ইশমাম চৌধুরী এবং ফ্রেশিফার্মের প্রতিষ্ঠাতা মুজাহিদুল ইসলাম জাহিদসহ আরও অনেকে।প্রোগ্রামের দ্বিতীয় ব্যাচে প্রযুক্তি, কৃষি, উৎপাদন, শিক্ষা, ফ্যাশন ও লাইফস্টাইল, সফটওয়্যার সার্ভিস এবং স্বাস্থ্য খাতের প্রায় ২০টি গ্রোথ-রেডি কোম্পানি অংশ নিচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠান সম্মিলিতভাবে ৩০০-এর বেশি কর্মসংস্থান তৈরি করেছে এবং বছরে প্রায় ৫০ কোটি টাকার রাজস্ব আয় করছে, যা বাংলাদেশের এসএমই ইকোসিস্টেমের সম্ভাবনা তুলে ধরছে।
শিক্ষা, প্রযুক্তি ও সামাজিক উদ্ভাবনে ১০ বছরের বেশি অভিজ্ঞতা নিয়ে লাইট অব হোপ এখন শ্রেণিকক্ষের বাইরেও কাজ করছে—এবার উদ্যোক্তা তৈরি ও ছোট ব্যবসাকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সক্ষম করে তুলতে।
‘লাইট অব হোপ ভেঞ্চারস’ নিজেকে গড়ে তুলতে চায় বাংলাদেশের এসএমই খাতের জন্য ‘ওয়াই কমবিনেটর’ হিসেবে। দেশের এসএমই খাতে প্রায় ২৮০ কোটি ডলারের অর্থায়ন ঘাটতি পূরণ এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসাগুলোকে টেকসইভাবে স্কেল-আপে সহায়তা করাই এ উদ্যোগের উদ্দেশ্য।
ওয়ালীউল্লাহ ভূঁইয়া বলেন, “আমরা শুধু কোম্পানিতে বিনিয়োগ করছি না, আত্মবিশ্বাসেও বিনিয়োগ করছি। রাজশাহী বা সিলেটের কোনো ব্যবসাও সঠিক সহায়তা পেলে বৈশ্বিক পরিসরে পৌঁছাতে পারে।”
বাংলাদেশের উদ্যোক্তা ইকোসিস্টেমে নতুন প্রজন্মের প্রবৃদ্ধিনির্ভর কোম্পানি তৈরি, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করছে ‘লাইট অব হোপ ভেঞ্চারস’।