প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৩ জুন ২০২৫ ১৭:৪৬ পিএম
দেশজুড়ে বিভিন্ন খাতের ১৭০-এর বেশি স্টার্টআপ ফাউন্ডার ও উদ্যোক্তার অংশগ্রহণে রবিবার ২৩ জুন, ২০২৫ সন্ধ্যায় ঢাকায় অনুষ্ঠিত হলো একটি বৃহৎ লার্নিং শেয়ারিং, মেন্টরিং ও নেটওয়ার্কিং মিলনমেলা। ইভেন্টটি আয়োজন করে লাইট অফ হোপ ভেঞ্চারস, সহযোগিতায় ছিল ইন্টারঅ্যাকটিভ কেয়ারস।
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা শিক্ষা, প্রযুক্তি, রিটেইলসহ বিভিন্ন খাতের অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন এবং ব্যবসার সম্ভাবনা, উন্নয়ন এবং চ্যালেঞ্জ নিয়ে মতবিনিময় করেন। উপস্থিত ছিলেন ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুষ্টিয়া, খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের উদ্যোক্তারা।
অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল প্যানেল আলোচনা, মূল বক্তৃতা, গ্রুপ মেন্টরিং সেশন এবং মুক্ত নেটওয়ার্কিং সুযোগ।
এছাড়া অংশগ্রহণমূলক বেশ কয়েকটি সেশনেও সক্রিয়ভাবে অংশ নেন উদ্যোক্তারা।
এতে টেকএবাইট সলিউশনস-এর সিইও সরোয়ার আহমেদ বলেন, কীভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) কনটেন্ট তৈরিতে, ভোক্তা টার্গেটিং ও পার্সোনালাইজেশনে বিপ্লব ঘটাচ্ছে। তিনি এমন অনেক সহজলভ্য টুলস ও কৌশল শেয়ার করেন, যেগুলো এসএমইগুলো এখনই ব্যবহার করতে পারে।

নেক্সট লিডারস-এর প্রতিষ্ঠাতা ওমর শরীফ ইবনে হাই অস্থির বাজার পরিস্থিতিতে ব্যবসার বৃদ্ধির কৌশল এবং সংকটকালীন ব্যবস্থাপনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দেন।
টগুমগু’র সিইও ড. নজমুল আরেফিন মোমেল করোনা মহামারির কঠিন সময় স্টার্টআপকে কীভাবে টিকিয়ে রেখেছেন, সে অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন।
লাইট অফ হোপ-এর সিইও এবং এই আয়োজনের অন্যতম উদ্যোক্তা ওয়ালিউল্লাহ ভূঁইয়া একটি সেশন নেন কীভাবে শুধু ব্যবসা নয়, ব্র্যান্ড তৈরি করা যায়, যা প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে সাহায্য করে।
ইন্টারঅ্যাকটিভ কেয়ারস-এর সিইও রেয়ার আল সামির জানান, তারা ইতোমধ্যে ১ মিলিয়ন কর্মসংস্থানের লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশের তরুণদের জন্য স্কিল ডেভেলপমেন্ট ও জব প্লেসমেন্ট সেবা দিচ্ছেন।
এই অনুষ্ঠানে উদ্যোক্তাদের জন্য দুটি নতুন প্রোগ্রাম সম্পর্কে অবহিত করা হয়।
এর মধ্যে ইন্টারঅ্যাকটিভ কেয়ারস পরিচালিত ‘আইডিয়া থেকে সফল ব্যবসা’ শীর্ষক তিন মাসব্যাপী একটি প্রোগ্রাম, যা আইডিয়া পর্যায়ের তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য।
আরেকটি হলো লাইট অফ হোপ ভেঞ্চারস বাস্তবায়িত এসএমই-দের জন্য তিন মাসের ব্যবসা অগ্রগতির সহায়তামূলক মেন্টরিং কোর্স, যার মাধ্যমে তরুণ উদ্যোক্তাদের টেকসই ও উদ্ভাবনী ব্যবসা গড়ে তুলতে সহায়তা করা হবে, যাতে হাজার হাজার কর্মসংস্থান তৈরি হয় এবং শিক্ষিত তরুণদের বেকারত্ব সমস্যা মোকাবিলা করা যায়।
ওয়ালিউল্লাহ ভূঁইয়া বলেন, “প্রারম্ভিক পর্যায়ের উদ্যোক্তাদের জন্য অর্থায়নের অভাব, বাজার বোঝার অসুবিধা ও সঠিক টিম গঠন একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এমন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে একে অপরের কাছ থেকে শেখার সুযোগ তৈরি হয়।”
আয়োজকরা জানান, অনলাইনে ও অফলাইনে ভবিষ্যতেও তারা এমন উদ্যোগ চালিয়ে যাবেন, যাতে একটি সহায়ক, শিখনশীল উদ্যোক্তা কমিউনিটি গড়ে ওঠে যারা একে অপরকে সহযোগিতা করে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।