যাপিত জীবন ডেস্ক
প্রকাশ : ১৯ জুন ২০২২ ১৮:৪৯ পিএম
পরিবেশের সুরক্ষায় প্রয়োজন পরিবেশবান্ধব রূপচর্চা
প্রকৃতির সুরক্ষায় বিশ্বজুড়ে কাজ করছে হাজারো সংগঠন, চলছে নানা আন্দোলন। বিশ্ব ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিতেও ‘ইকো-ফ্রেন্ডলি বিউটি রুটিন’ তথা পরিবেশবান্ধব রূপচর্চার বিষয়টি আলোচনার জন্ম দিচ্ছে। প্রশ্ন হতে পারে, রূপচর্চায় পরিবেশবান্ধবতা কিভাবে আনবেন? তার আগে জেনে নেয়া প্রয়োজন ওয়ার্ল্ড বিউটি ইন্ডাস্ট্রি পরিবেশের ওপর কিরূপ প্রভাব ফেলছে। প্রতি বছর আট মিলিয়ন টন প্লাস্টিক বর্জ্য সমুদ্রে নিক্ষেপিত হচ্ছে। যার ৪০ শতাংশই প্যাকেজিং কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। আর বিউটি ইন্ডাস্ট্রি প্রতি বছর ১২০ বিলিয়ন কেজি প্ল্যাস্টিক ব্যবহার করছে শুধু প্যাকেজিংয়ের কাজেই। পরিবেশের সুরক্ষায় তাই এখনই সময় ইকো-ফ্রেন্ডলি বিউটি রুটিনে মনোযোগ দেয়ার। পরিবেশবান্ধব রূপচর্চায় কি কি কাজ করতে পারেন এবার আসা যাক সে প্রসঙ্গে।
মনের সঙ্গে বোঝাপড়া
পরিবেশবান্ধব রূপচর্চায় প্রথমেই যেটা প্রয়োজন সেটা হলো মনের সঙ্গে বোঝাপড়াটা, মানে ,মনে মনে সিদ্ধাš নেয়া যে, আপনি রূপচর্চায় পরিবাশবন্ধব হবেন, সে জন্য যে যে কাজ করা প্রয়োজন তা করবেন। প্রথম ধাপের পর বাকি রইলো অন্য কিছু কাজ।
পরিবেশবান্ধব পণ্য নির্বাচন
দ্বীতিয়ত হলো সৌন্দর্যচর্চায় পণ্য নির্বাচনে সেটা পরিবেশবান্ধব কি-না বা প্রাকৃতিক উপাদানে তৈরি কি-না সেটা দেখে কেনা। পণ্যের গায়েই তৈরির উপাদান লেখা থাকে আজকাল। সাবান, শ্যা¤ক্সু, হেয়ার রিমুভার, মেকাপ আইটেম থেকে শুরু করে বিভিন্ন পণ্যে কতটা কেমিক্যাল এবং কতটা প্রাকৃতিক নির্যাস ব্যবহার করা হয়েছে তা দেখে কেনাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।
রাসায়নিক ফর্মুলার পণ্য বর্জন
কেমিক্যাল ফর্মুলার অজস্র বিউটি পণ্য রয়েছে বাজারে। বিশেষত পেট্রোলিয়াম জাতক পণ্যগুলো বর্জণ করতে পারেন। এছাড়াও পারাফিন অয়েল, প্রোপাইলিন গ্লাইকোল এবং ইথাইনিল ব্যবহার করা হয়ে থাকে বিভিন্ন পণ্যে। প্রশ্ন হতে পারে তার বদলে কোন ধরণের পণ্য নির্বাচন করবো? সেটাও সহজÑ ব্যবহার করতে পারেন মোম, কোকো বাটার এবং ভেজিটেবল তেল সমৃদ্ধ পণ্য।
পুনরায় ব্যবহারযোগ্য মোড়কজাত পণ্য বাছাই
রিসাইকেবল প্যাকেজিং বা পুনরায় ব্যবহারযোগ্য মোড়কজাত পণ্য বাছাই করাও পরিবেশবান্ধব রূপচর্চার একটি অন্যতম মাধ্যম হতে পারে। জনসন অ্যান্ড জনসনের তথ্য মতে, ২০১৪ সাল পর্যš শুধুমাত্রআমেরিকাতেই ৫৫২ মিলিয়ন শ্যা¤ক্সুর বোতল উৎপন্ন হয়েছে। রূপচর্চায় পরিবেশবান্ধব হতে চাইলে প্লাস্টিক মোড়কের পণ্য বর্জণ করুন। এর বদলে কাচের জার সমৃদ্ধ বোতলের পণ্য রাখুন পছন্দের তালিকায়। এছাড়াও পুনরায় ব্যবহারযোগ্য মোড়ক সমৃদ্ধ বিউটি প্রোডাক্ট দেখে কিনতে পারেন।
মনোযোগ দেয়া চাই বিউটি টুলসেও
বিউটি প্রোডাক্টের পাশাপাশি বিউটি টুলস বাছাইয়ের ক্ষেত্রেও সর্তকর্তা অবলম্বন করা জরুরী। পুনরায় ব্যবহারযোগ্য বা ধুয়ে ব্যবহার করা যায় এমন কটন প্যাডস এবং ওয়াইপস নির্বাচন করতে পারেন। পাশাপাশি পুরনো টাওয়াল দিয়েও বানিয়ে নিতে পারেন ওয়াইপস বা প্যাড। এটা অর্থ তো বাঁচাবেই একই সঙ্গে প্রকৃতিরও সুরক্ষা দিবে। রেজার নির্বাচনে প্লাস্টিক রেজারের বদলে স্টেইনলেস স্টিল সেফটি রেজার থাকতে পারে তালিকায়। এছাড়াও মেকাপ ব্রাশ, এপ্লিকেটরস ও হেয়ারব্রাশ কেনার সময় প্রাকৃতিক উপাদানে তৈরি যেমন বাঁশ বা কাঠের পণ্য কিনতে পারেন। প্রাণীজ পশম সমৃদ্ধ ব্রাশগুলো বর্জণ করাই হবে শ্রেয়।
ঘরোয়া উপাদানে হোক সৌন্দর্য চর্চা
বাজারের বিভিন্ন বিউটি প্রোডাক্ট ক্রয় করে বা পার্লারে গিয়ে সময় ও অর্থ খরচ না করে ঘরোয়া উপাদানে সৌন্দর্য চর্চায় মনোনিবেশ করা হতে পারে পরিবেশবান্ধব রূপচর্চার অন্যতম প্রধান পদক্ষেপ। ঘরোয়া উপাদান ব্যবহার করে ত্বক ও চুলের যতœ নেয়াটা আজকাল আর কঠিন কোনো বিষয় নয়। এ বিষয়ে অনলাইনে পাবেন হাজারো তথ্য এবং ইউটিউবে পাবেন অজস্র ভিডিও। সুতরাং দেরি না করে আজই করতে পারেন শুরু।
সৌন্দর্যচর্চায় আনা চাই সহজ ভাবনা
নিজেকে সুন্দর করে তুলতে বা উপস্থাপন করতে আমরা সবাই চাই। এজন্য নিয়মিত রূপচর্চার কোন বিকল্প নেই। কিন্তু তাই বলে ভুরি ভুরি পণ্য দিয়ে রূপচর্চারও কোনো মানে নেই। সিমপ্লিফিকেশন বা সহজতর ভাবেও রূপচর্চায় মনোনিবেশ করা যায়। প্রয়োজনের অতিরিক্ত ক্লিনজার, টোনার, ক্রিম, ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার না করার পরামর্শ দেন রূপচর্চাবিদগণ। এর মাধ্যমে অর্থ সাশ্রয় যেমন হবে তেমনি ইকো-ফ্রেন্ডলি বিউটি রুটিন চর্চাও হবে।