প্রতিদিনের বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ : ১৮ এপ্রিল ২০২২ ১৮:২৪ পিএম
সিলেটের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনে নিহত রায়হান আহমদ হত্যা মামলার বিচার শুরু হয়েছে। সোমবার দুপুরে সিলেট মহানগর দায়রা জজ মো. আব্দুর রহিমের আদালত এ মামলায় অভিযোগ গঠনের মধ্যদিয়ে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন।
আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের কৌশলী নওশাদ আহমদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আগামী ১০ মে বাদি পক্ষের সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হবে।
অভিযোগ গঠনের সময় মামলার মূল আসামি সিলেটের বন্দরবাজার ফাঁড়ির তৎকালীন ইনচার্জ বহিষ্কৃত এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়াসহ ৫ আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তাদের কড়া নিরাপত্তায় আদালতে হাজির করা হয়। তাদের মধ্যে এক আসামী পলাতক রয়েছেন।
এর আগে কয়েকদফা পিছিয়ে যায় অভিযোগ গঠনের তারিখ। সর্বশেষ গত ১২ এপ্রিল আসামিদের পক্ষে ডিসচার্জ পিটিশন দাখিল ও তা শুনানি না হওয়ায় অভিযোগ গঠনের তারিখ পিছিয়ে যায়।
২০২০ সালের ১০ অক্টোবর রাতে নগরের আখালিয়া এলাকার বাসিন্দা রায়হান আহমদকে ধরে নিয়ে আসে বন্দরবাজার ফাঁড়ি পুলিশ। পরদিন সকালে তিনি মারা যান। পুলিশের পক্ষ থেকে প্রথমে দাবি করা হয়, ছিনতাইকালে গণপিটুনিতে মারা গেছেন রায়হান। তবে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা ফাঁড়িতে নির্যাতন চালিয়ে রায়হানকে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে এই অভিযোগের সত্যতাও মিলে। এরপর এস আই আকবরসহ ফাঁড়িতে কর্মরত ৫ পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়।
এ ঘটনায় রায়হানের স্ত্রী বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে মামলা করেন।
গত বছরের ৫ মে এই মামলার অভিযোগপত্র প্রদান করে তদন্তকারী সংস্থা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ ( পিবিআই)। এতে বরখাস্ত হওয়া এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়া, এসআই হাসান উদ্দিন, এএসআই আশেক এলাহী, কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাস, হারুনুর রশিদ ও কথিত সাংবাদিক আবদুল্লাহ আল নোমানকে অভিযুক্ত করা হয়।
অভিযুক্তদের মধ্যে নোমান ছাড়া সবাই কারাগারে আছেন। চলতি বছরের ৮ মার্চ সিলেট অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত থেকে মামলাটি সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতে স্থানান্তরিত হয়।