নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০২ আগস্ট ২০২২ ১৮:১৫ পিএম
আপডেট : ০২ আগস্ট ২০২২ ১৯:১৮ পিএম
১২ নয় ১৬ কোটি টাকা ফি নিয়েছিলেন আইনজীবী ইউসুফ আলী
গ্রামীণ টেলিকমের চাকরিচ্যুতদের পাওনা আদায়ে নিয়োজিত আইনজীবী ইউসুফ আলী ১২ কোটি টাকা ফি নিয়েছেন এমন অভিযোগ উঠেছিল। তবে প্রতিবেদনে এসেছে ১২ নয় ১৬ কোটি টাকা ফি নিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার বিচারপতি খুরশীদ আলম সরকারের হাইকোর্ট বেঞ্চে ইউসুফ আলীর আইনজীবীরা হলফনামা আকারে এ তথ্য জানান।
আদালতে ইউসুফ আলীর পক্ষে আইনজীবী আহসানুল করিম, রবিউল আলম বুদু, সাঈদ আহমেদ রাজা ও ব্যারিস্টার অনীক আর হক এবং গ্রামীণ টেলিকমের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার মোস্তাফিজুর রহমান খান।
আইনজীবী আহসানুল করীম বলেন, ‘এই মামলায় আইনজীবী ইউসুফ আলী তার মোয়াক্কেলদের কাছ থেকে ১৬ কোটি টাকা ফি নিয়েছেন। এ ছাড়া অন্যান্য ফি বাবদ নিয়েছেন আরো ১০ কোটি টাকা।’ এ সময় আদালত বলেন, ‘এটা সিম্পল ব্যাপার। আপনি বলুন যে আপনি এত টাকা ফি নিয়েছেন। বাকিটা দুদক নাকি বাংলাদেশ ব্যাংক দেখবে সেটা তাদের ব্যাপার। অন্যান্য ফি ১০ কোটি টাকার বিষয়ে বিস্তারিত বলুন। এত লুকোচুরি করছেন কেন? সম্পূর্ণভাবে নির্দিষ্ট করে বলতে হবে সব।’ আইনজীবীরা বলেন, তারা সম্পূরক হলফনামার মাধ্যমে সবকিছু নির্দিষ্ট করে উল্লেখ করে দেবেন। এরপর আদালত তাদের দুই দিন সময় দেন।
এর আগে গত ৩০ জুন নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ টেলিকমের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় রিটকারীদের আইনজীবীকে ১২ কোটি টাকার বিনিময়ে সমঝোতার প্রসঙ্গ তোলেন হাইকোর্ট। হাইকোর্ট বলেন, আদালতকে ব্যবহার করে অনিয়ম যেন না হয়। যদি সবকিছু আইন অনুযায়ী না হয়, তবে বিষয়টি সিরিয়াসলি দেখা হবে। কোর্ট ও আইনজীবীর সততা নিয়ে যেন কোনো প্রশ্ন না ওঠে। এ সময় আদালত বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশ কেন, উপমহাদেশের এমন কোনো আইনজীবী জন্ম নেননি যার ফি ১২ কোটি টাকা হবে। গত ৭ ফেব্রুয়ারি ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মালিকানাধীন গ্রামীণ টেলিকমের অবসায়ন চেয়ে হাইকোর্টে মামলা করা হয়। গ্রামীণ টেলিকমের শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের পক্ষে মামলাটি দায়ের করেন আইনজীবী ইউসুফ আলী। আবেদনে গ্রামীণ টেলিকমের কাছে শ্রমিকদের পাওনা আড়াইশ কোটি টাকার বেশি বলে উল্লেখ করা হয়। পরে আবেদনকারীদের পাওনা টাকা পরিশোধ করা হয়েছে উল্লেখ করে মামলাটি তুলে নেয় বাদী পক্ষ।
/জেআই/