চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ১৬:১৯ পিএম
আপডেট : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ১৬:৫৪ পিএম
সাবেক সংসদ সদস্য আবু রেজা মোহাম্মদ নেজাম উদ্দিন নদভী ও তার স্ত্রী রিজিয়া রেজা চৌধুরী। সংগৃহীত ফটো
জাতীয় নির্বাচনের আগে ভোটারদের ‘প্রলোভন’ দেখিয়ে বক্তব্য দিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য আবু রেজা মোহাম্মদ নেজাম উদ্দিন নদভী ও তার স্ত্রী রিজিয়া রেজা চৌধুরী। তাদের সেসব বক্তব্যে নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ করা হয়েছে– প্রমাণসাপেক্ষ সুপারিশ পেয়ে এই আলোচিত সাবেক সংসদ সদস্য ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে নির্বাচন কমিশন। দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা বিকল চাকমা বুধবার (৭ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রাম জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এ মামলাটি করেছেন।
আবু রেজা নদভী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া ও লোহাগড়া) আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ছিলেন। তিনি এই আসন থেকে দুবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। এবার তিনি ঈগল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল মোতালেবের কাছে পরাজিত হয়েছেন।
নদভী ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ– গত ৩১ ডিসেম্বর বেলা ৩টায় নিজ নির্বাচনী প্রচারের সমাবেশে চুনতি মাদ্রাসায় সিরাতুন্নবি (স.) মাহফিলের জন্য এক কোটি টাকা অনুদান ঘোষণা করেন। একই সময়ে নিজ দলীয় এক সমর্থকের ছেলেকে চাকরির ঘোষণা দেন। এ ছাড়া আরেক সমাবেশে আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে স্কলারশিপ দেওয়ার ঘোষণা দেন। আরেক সভায় নৌকা মার্কায় ভোট না দিলে ভোটাররা গোনাহগার হবে– এমন বক্তব্য দিয়েছেন। তার স্ত্রী রিজিয়া রেজা চৌধুরী পুটিবিলা তাতিপাড়ায় এক সমাবেশে দুই লাখ টাকার অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দেন। এ ছাড়া আমিরাবাদ মাস্টারহাটে এক উঠান বৈঠকে সওয়াব কামানোর জন্য এবং কেয়ামতের মাঠ পার হওয়ার জন্য হাশরের ময়দান পার হওয়ার জন্য নৌকা প্রতীকে ভোট দেওয়া প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নদভী ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে গত ২ জানুয়ারি একই আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল মোতালেব নিার্বচনী অনুসন্ধান কমিটির কাছে অভিযোগ জমা দেন। নদভী ও তার স্ত্রীর কাছে ব্যাখ্যা চেয়ে ৪ জানুয়ারি চিঠি দেয় কমিটি। ব্যাখ্যায় দুজন অভিযোগ অস্বীকার করলেও অনুসন্ধান কমিটি অভিযোগের সত্যতা পান। পরে নির্বাচন অনুসন্ধান কমিটি এই দম্পতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সুপারিশ করেন।
চট্টগ্রাম জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘আদালত মামলাটি গ্রহণ করেছেন। নদভী ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে সমন জারি করেছেন।’