প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০২ জানুয়ারি ২০২৪ ১২:১৬ পিএম
আপডেট : ০২ জানুয়ারি ২০২৪ ১৩:০৯ পিএম
সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আবেদন করেও দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া হচ্ছে না বরিশাল-৪ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী শাম্মী আহমেদ ও বরিশাল-৫ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর। শাম্মী আহমেদের প্রার্থিতা ফিরে পেতে করা আপিল আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। আর সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর প্রার্থিতা বাতিলই থাকবে বলে রায় দিয়েছে আপিল বিভাগ। অন্যদিকে ফরিদপুর-৩ আসনের আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী শামীম হকের দ্বৈত নাগরিকত্বের বিষয়ে শুনানি এক সপ্তাহ পর হবে বলে জানিয়েছেন আপিল বিভাগ। তবে এ সময়ে তার নির্বাচনী প্রক্রিয়া চলতে বাধা নেই বলেও জানিয়েছেন চেম্বার আদালত।
মঙ্গলবার (২ জানুয়ারি) প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন ছয় সদস্যের আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ ও নিয়মিত বেঞ্চ শাম্মী আহমেদের এ আদেশ দেন।
এর আগে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়ার জন্য করা আবেদনের শুনানি নিয়ে গত মঙ্গলবার (২৬ ডিসেম্বর) বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের চেম্বার জজ আদালত এ দিন ধার্য করেন। তারই ধারাবাহিকতায় আজ সেটির শুনানি হয়।
আদালতে আজ শাম্মী আহমেদের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ন, মো. মোমতাজ উদ্দিন ফকির, অ্যাডভোকেট শাহ মঞ্জুরুল হক, মোতাহার হোসেন সাজুসহ এক ডজন সিনিয়র আইনজীবী।
গত ১৯ ডিসেম্বর প্রার্থিতা বাতিলের বিরুদ্ধে বরিশাল-৪ আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী শাম্মী আহমেদের রিট খারিজ করে হাইকোর্টের আদেশ বহাল রাখেন আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালত। ফলে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ বন্ধ হয়ে যায়।
এর আগে ১৮ ডিসেম্বর প্রার্থিতা বাতিলের বিরুদ্ধে বরিশাল-৪ আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী শাম্মী আহমেদের রিট খারিজ করে দেন হাইকোর্ট। হাইকোর্টের বিচারপতি মো. ইকবাল কবীর ও বিচারপতি এস এম মনিরুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন। পরে এই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করেন শাম্মী আহমেদ।
গত ১৫ ডিসেম্বর দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগে প্রার্থিতা বাতিল হয় বরিশাল-৪ আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী শাম্মী আহমেদের।
এদিকে বরিশাল-৫ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর প্রার্থিতা বাতিলই থাকবে বলে রায় দিয়েছেন আপিল বিভাগ।
আজ মঙ্গলবার সকালে প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে ৬ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ প্রার্থিতা ফেরত চেয়ে সাদিক আব্দুল্লাহর করা আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন।
বরিশালের সাবেক মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ দলের মনোনয়ন না পেয়ে বরিশাল-৫ আসনে স্বতন্ত্র হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। গত ১৫ ডিসেম্বর রিটার্নিং কর্মকর্তা তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছিলেন। কিন্তু দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগ তুলে তার মনোনয়ন বাতিল চেয়ে পরে ইসিতে আপিল করেন ওই আসনের নৌকার প্রার্থী পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামীম। শুনানি শেষে সাদিক আব্দুল্লাহর প্রার্থিতা বাতিল করে কমিশন। পরে ইসির আদেশ চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন সাদিক আব্দুল্লাহ। তার করা রিটের শুনানি নিয়ে ১৮ ডিসেম্বর হাইকোর্ট নির্বাচন কমিশনের আদেশের ওপর স্থগিতাদেশ দেয়। ফলে সাদিক আব্দুল্লাহর মনোনয়নপত্র বৈধতা পায়।
পরদিন হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে আবেদন করেন জাহিদ ফারুক। ওই আবেদনের শুনানি নিয়ে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করেন চেম্বার আদালত। এর ফলে সাদিক আব্দুল্লাহর নির্বাচন আটকে যায়। পরে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার চেয়ে আবেদন করেন বরিশালের সাবেক মেয়র। সেটি শুনানি শেষে আজ তার আবেদন খারিজ করে দেয় আপিল বেঞ্চ।
অন্যদিকে ফরিদপুর-৩ আসনের আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী শামীম হকের দ্বৈত নাগরিকত্বের বিষয়ে শুনানি এক সপ্তাহ পর হবে বলে জানিয়েছেন আপিল বিভাগ। মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে ৬ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
এর আগে ২১ ডিসেম্বর তার প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী একে আজাদের করা আবেদনের শুনানি শেষে আদেশের দিন আজ নির্ধারণ করেছিলেন চেম্বার আদালত। তবে এ সময়ে আওয়ামী লীগের শামীম হকের নির্বাচনী প্রক্রিয়া চলতে বাধা নেই বলেও জানিয়েছিলেন চেম্বার আদালত। ওইদিন আদালতে শামীম হকের পক্ষে শুনানি করেন, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, অ্যাডভোকেট সাঈদ রাজা ও অ্যাডভোকেট শাহ মঞ্জুরুল হক, অ্যাডভোকেট আহসানুল করিম। আর একে আজাদের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী প্রবীর নিয়োগী, ব্যারিস্টার মোস্তাফিজুর রহমান খান ও ব্যারিস্টার তানজীবুল আলম। ওইদিন শামীম হকের প্রার্থিতা বাতিল করতে চেম্বার আদালতে ফের আবেদন করেন একে আজাদ।
এর আগে মঙ্গলবার (১৯ ডিসেম্বর) আপিল বিভাগের বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিমের চেম্বার আদালত আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী শামীম হকের প্রার্থিতা বহাল রাখেন। ওইদিন আদালতে তার পক্ষে শুনানি করেন শাহ মঞ্জুরুল হক। আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে তার আইনজীবী শাহ মঞ্জরুল হক আপিল আবেদন করেন।
এর আগে সোমবার (১৮ ডিসেম্বর) শামীম হকের প্রার্থিতা বাতিল করে নির্বাচন কমিশনের দেওয়া সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন হাইকোর্ট। তার রিট খারিজ করেন বিচারপতি মো. ইকবাল কবীর ও বিচারপতি এসএম মনিরুজ্জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চ।
১৫ ডিসেম্বর ফরিদপুর-৩ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী শামীম হকের প্রার্থিতা বাতিল করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে শুনানি শেষে এই রায় দেয় ইসি। এই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট করেন শামীম হক। শামীম হকের প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে আপিল করেন একই আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল কালাম (একে) আজাদ। তার আপিল মঞ্জুর করায় শামীম হকের প্রার্থিতা বাতিল হয়।
শামীম হক নেদারল্যান্ডসের নাগরিক—এমন অভিযোগ তুলে তার প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে গত ৮ ডিসেম্বর আবেদন করেন স্বতন্ত্র প্রার্থী একে আজাদ। আজাদের পক্ষে তার আইনজীবী মো. গোলাম কিবরিয়া ইসিতে আপিল আবেদন জমা দেন। অন্যদিকে একে আজাদের প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে শামীম হকের করা আপিল আবেদন নামঞ্জুর করে ইসি। ফলে একই আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে একে আজাদের প্রার্থিতা বহাল থাকে। শামীম হক ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও একে আজাদ জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা কমিটির সদস্য।