প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০২ জানুয়ারি ২০২৪ ১০:০৯ এএম
আপডেট : ০২ জানুয়ারি ২০২৪ ১১:২৮ এএম
ছবি : সংগৃহীত
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনজন প্রার্থী অংশ নিতে পারবেন কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে আজ মঙ্গলবার (২ জানুয়ারি)। আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত তিন প্রার্থীর বিষয়ে চূড়ান্ত রায় দেবেন। তারা হলেন- বরিশাল-৪ আসনের নৌকার প্রার্থী শাম্মী আহমেদ, ফরিদপুর-৩ আসনের নৌকার প্রার্থী শামীম হক এবং বরিশাল-৫ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ। তিনজনের বিরুদ্ধেই দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগ করেছেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা। অভিযোগ আমলে নিয়ে নির্বাচন কমিশন তাদের প্রার্থিতা বাতিল করেন। পরে উচ্চ আদালত থেকে তারা প্রার্থিতা ফিরে পেলেও আদেশ চ্যালেঞ্জ করেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা।
শাম্মী আহমেদ ও একই আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী পঙ্কজ দেবনাথ পরস্পরের প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে আবেদন করেছিলেন নির্বাচন কমিশনে (ইসি)। শাম্মী অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক হলেও তা গোপন করেছেন বলে অভিযোগ ছিল পঙ্কজের। ইসি তার দ্বৈত নাগরিকত্ব সম্পর্কে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ঢাকার অস্ট্রেলিয়া দূতাবাসের সহায়তায় তথ্য সংগ্রহের নির্দেশনা দেয়। ইসির নির্দেশনা অনুযায়ী, শাম্মীর দ্বৈত নাগরিকত্বের তথ্য সংগ্রহ করে জরুরি ভিত্তিতে ১৪ ডিসেম্বর ইসি সচিবালয়ে পাঠানো হয়। পরদিন শাম্মীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়। তবে পঙ্কজের প্রার্থিতা বহাল রাখে ইসি। পরে শাম্মী হাইকোর্টে রিট করেন। ওই রিটটি ১৭ ডিসেম্বর খারিজ হয়ে যায়। পরদিন তিনি আপিল বিভাগে আবেদন করেন। শুনানি শেষে চেম্বার আদালত ‘নো অর্ডার’ আদেশ দেন। ফলে হাইকোর্টের আদেশ বহাল থেকে যায়। এই আদেশ চ্যালেঞ্জ করে ২১ ডিসেম্বর তিনি ফের আবেদন করেন।
দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগ এনে ফরিদপুর-৩ আসনে নৌকার প্রার্থী শামীম হকের প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে ইসিতে আবেদন করেছিলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী এ কে আজাদ। শামীম হক নেদারল্যান্ডসের নাগরিক বলে অভিযোগ আনেন তিনি। শুনানি শেষে ১৫ ডিসেম্বর শামীমের মনোনয়নপত্র বাতিল করে দেয় ইসি। এই আদেশ চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে রিট করেন নৌকার প্রার্থী। ১৭ ডিসেম্বর হাইকোর্টের বিচারপতি মো. ইকবাল কবির ও বিচারপতি এস এম মনিরুজ্জামানের বেঞ্চ তার রিট সরাসরি খারিজ করে দেন। পরে তিনি আপিল বিভাগে আবেদন করেন। ১৯ ডিসেম্বর আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতের বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের আদালত শামীমকে নির্বাচনে অংশ নিতে সুযোগ দেওয়ার নির্দেশ দেন। তবে তার প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে ফের আবেদন করেন স্বতন্ত্র প্রার্থী এ কে আজাদ।
দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগে বরিশাল-৫ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে আপিল করেছিলেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী জাহিদ ফারুক। গত ১৫ ডিসেম্বর নির্বাচন ভবনে আপিল শুনানি শেষে তার প্রার্থিতা বাতিল করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। পরে এ আদেশ চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন সাদিক আবদুল্লাহ। তার করা রিটের শুনানি নিয়ে ১৭ ডিসেম্বর বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমান ও বিচারপতি মো. বশির উল্লাহর হাইকোর্ট বেঞ্চ নির্বাচন কমিশনের আদেশের ওপর স্থগিতাদেশ দেন। ফলে সাদিক আবদুল্লাহর মনোয়নপত্র বৈধতা পায়। কিন্তু হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে আবেদন করেন জাহিদ ফারুক। শুনানি শেষে আপিল বিভাগে হাইকোর্টের আদেশ ৮ সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেন। এই আদেশের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করেন সাদিক। এর ওপর শুনানির জন্য আজ মঙ্গলবার দিন ধার্য করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত।