প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৬ অক্টোবর ২০২২ ১৭:৫৭ পিএম
আপডেট : ১৬ অক্টোবর ২০২২ ১৯:০৯ পিএম
হাইকোর্ট ভবন।
পদ্মা সেতু নির্মাণ শুরুর আগেই এটি নিয়ে দুর্নীতির মিথ্যা গল্প সৃষ্টির নেপথ্যের ষড়যন্ত্রকারীদের খুঁজে বের করতে কমিশন গঠন সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত সময় দিয়েছেন হাইকোর্ট।
বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি খিজির হায়াতের হাইকোর্ট বেঞ্চ রোববার (১৬ অক্টোবর) মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে ওই প্রতিবেদন দাখিলের জন্য এই সময় দেন। ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক প্রতিদিনের বাংলাদেশকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জানান, পদ্মা সেতু নিয়ে জারি করা রুলের বিষয়টি গত ২৬ জুন আদালতে উপস্থাপন করার পর তা শুনানির জন্য ২৭ জুন দিন নির্ধারণ করেন হাইকোর্ট। ওই দিন পদ্মা সেতু নির্মাণ চুক্তি নিয়ে দুর্নীতির মিথ্যা গল্প সৃষ্টির নেপথ্যের ষড়যন্ত্রকারীদের খুঁজে বের করতে কমিশন গঠন প্রশ্নে জারি করা রুলের ওপর হাইকোর্টে শুনানি হয়। ওই রুলের ওপর আরও শুনানি করতে ও আদেশের জন্য আগামী ৩০ অক্টোবর দিন ধার্য করা হলো।
২৭ জুন শুনানিতে পদ্মা সেতুকে জাতীয় সম্পদ ও দেশের অহংকার উল্লেখ করে হাইকোর্ট বলেন, ‘যারা এমন জাতীয় সম্পদের বিরোধিতা করবে, তারা জাতির শত্রু। ষড়যন্ত্র না থাকলে পদ্মা সেতুতে বিশ্বব্যাংক অর্থায়ন বন্ধ করল কেন?’
আদালত পর্যবেক্ষণে আরও বলেন, ‘পদ্মা সেতু আমাদের জাতীয় সম্পদ। এটা আমাদের অহংকার। এ ধরনের জাতীয় স্বার্থ ও উন্নয়নের বিরুদ্ধে যারা থাকেন, তারা জাতির শত্রু, দেশের শত্রু, তাদের চিহ্নিত করা দরকার।’
একটি জাতীয় পত্রিকায় ২০১৭ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি ‘ইউনূসের বিচার দাবি : আওয়ামী লীগ ও সমমনা দলগুলো একাট্টা’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
১৫ ফেব্রুয়ারি ওই প্রতিবেদনসহ বিভিন্ন পত্রিকার সংবাদের কথা উল্লেখ করে রুল জারি করেন হাইকোর্ট।
সে সময় পদ্মা সেতুর দুর্নীতি নিয়ে মিথ্যা গল্প সৃষ্টিকারী কে-তা জানতে চেয়ে এবং প্রকৃত ষড়যন্ত্রকারীদের খুঁজে বের করার জন্য ‘ইনকোয়ারি অ্যাক্ট ১৯৬৫ (৩ ধারা)’ অনুসারে কমিশন গঠন এবং দোষীদের বিচারের আওতায় আনতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে স্বতঃপ্রণোদিত রুল জারি করে হাইকোর্ট। একই সঙ্গে তাদের কেন বিচারের মুখোমুখি করা হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়েছিল ওই রুলে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন ও যোগাযোগ সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, যোগাযোগ সচিব ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যানকে চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়।
পাশাপাশি, এ কমিটি বা কমিশন গঠনের বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে সে ব্যাপারে ৩০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে ওই বছরের ২০ মার্চ রুলের জবাব ও প্রতিবেদন দিতে আট সপ্তাহের সময় চেয়ে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। এ আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে একই বছরের ৭ মে পর্যন্ত সময় বাড়িয়ে দেন হাইকোর্ট। পরে কয়েক দফা সময়ের আবেদন জানায় রাষ্ট্রপক্ষ।
উল্লেখ্য, গত ২৫ জুন দুপুরে মাওয়া প্রান্তে নামফলক উন্মোচনের মাধ্যমে দেশের দীর্ঘতম পদ্মা সেতুর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
প্রবা/জিজি/টিই