শাপলা চত্বরে হেফাজতকাণ্ড
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ১২:১১ পিএম
আপডেট : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ১৩:২০ পিএম
ঢাকার মতিঝিলের শাপলা চত্বর থেকে হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীদের সরিয়ে দেওয়ার অভিযানে মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগে মানবাধিকার সংগঠন অধিকারের সম্পাদক আদিলুর রহমান খান ও পরিচালক নাসিরুদ্দিন এলানের বিরুদ্ধে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে হওয়া মামলার রায় ঘোষণার তারিখ পিছিয়েছে। আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর রায় ঘোষণার নতুন তারিখ ধার্য করেছেন আদালত।
আজ বৃহস্পতিবার (৭ সেপ্টেম্বর) রায় ঘোষণার দিন ধার্য ছিল। কিন্তু এদিন রায় প্রস্তুত না হওয়ায় ঢাকার সাইবার টাইব্যুনালের বিচারক এ এম জুলফিকার হায়াত রায় ঘোষণার জন্য ফের নতুন এ দিন ধার্য করেন।
এ বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক এএম জুলফিকার হায়াতের আদালতে আজ রায় ঘোষণা হওয়ার কথা ছিল। তবে মামলার রায় প্রস্তুত না হওয়ায় নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত।’
তিনি আরও বলেন, ‘শুনানিতে ২২ জন স্বাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন। তাদের মাধ্যমে আমরা মামলাটি যথাযথভাবে প্রমাণ করতে পেরেছি। এখন রায়ের অপেক্ষায় আছি।’
অপরদিকে আসামি পক্ষের আইনজীবী রুহুল আমিন ভূঁইয়া বলেন, ‘রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের কারোর দোষ প্রমাণ করতে পারেনি। সুতরাং অধিকারের সম্পাদক আদিলুর রহমান খান ও পরিচালক নাসিরুদ্দিন এলান দুইজনেই খালাস পাবেন বলে আমরা বিশ্বাস করি।’
২০১৩ সালের ৫ মে রাতে মতিঝিলের শাপলা চত্বর থেকে হেফাজতে ইসলামের কর্মীদের সরিয়ে দিতে অভিযান চালায় যৌথ বাহিনী। ওই ঘটনায় বহু নেতাকর্মী মারা গেছেন বলে দাবি করে হেফাজতে ইসলাম। তবে তাদের এ দাবির পক্ষে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য-প্রমাণ দিতে পারেনি দলটি।
একই বছরের ১০ জুন মানবাধিকার সংগঠন অধিকার দাবি করে ওই ঘটনায় ৬১ জন মারা গেছেন। এই তালিকা মিথ্যা উল্লেখ করে গুলশান থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন ডিবির উপপরিদর্শক (এসআই) আশরাফুল ইসলাম। পরে সেটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়।
একই বছরের ১০ জুলাই তালিকাটি চেয়ে অধিকারকে চিঠি দেয় তথ্য মন্ত্রণালয়। কিন্তু তালিকা দিতে অস্বীকৃতি জানায় অধিকার। পরে ১০ আগস্ট গ্রেপ্তার হন অধিকার সম্পাদক আদিলুর রহমান খান। পরদিন সংগঠনটির কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে কম্পিউটারে পাওয়া যায় ৬১ জনের নামের তালিকা।
এ নিয়ে তদন্ত শেষে ২০১৩ সালের ৪ সেপ্টেম্বর ৩২ জনকে সাক্ষী করে আদিলুর ও এলানের বিরুদ্ধে ঢাকার আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। ২০১৪ সালের ৮ জানুয়ারি শুরু হয় বিচার কাজ। কিন্তু উচ্চ আদালতে আসামিদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তিন বছরের জন্য স্থগিত হয়ে যায় বিচার কাজ। পরে ২০১৭ থেকে শুরু হয় শুনানি। ২২ সাক্ষীর সাক্ষ্যের মধ্য দিয়ে মামলার শুনানি শেষ হয়।
২০১৩ সালে দায়ের হওয়া এই মামলার আসামি অধিকারের সম্পাদক আদিলুর এবং পরিচালক এএস এম নাসির উদ্দিন এলান এখন জামিনে আছেন।