প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১০ আগস্ট ২০২৩ ২০:৪৫ পিএম
আপডেট : ১০ আগস্ট ২০২৩ ২০:৪৯ পিএম
ফাইল ছবি
বারবার অনিয়মের কারণে আলোচিত-সমালোচিত কক্সবাজারের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাইলকে বদলি করা হয়েছে। তাকে কক্সবাজার থেকে বদলি করে আইন ও বিচার বিভাগে সংযুক্ত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ আগস্ট) আইন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এদিকে মারধর ও ভাঙচুরের একটি মামলায় দুই আসামিকে শুনানি ছাড়াই জামিন দেওয়ার ঘটনায় মোহাম্মদ ইসমাইলকে তলব করেছেন হাইকোর্ট। আগামী ১৬ আগস্ট তাকে হাজির হয়ে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
বিচারক মো. বদরুজ্জামান ও বিচারক এস এম মাসুদ হোসেন দোলনের হাইকোর্ট বেঞ্চ ৮ আগস্ট এ আদেশ দেন। বৃহস্পতিবার সংশ্লিষ্ট আইনজীবী সারওয়ার আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গত ২৭ জুলাই চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জামিন নাকচ হওয়া আসামিদের আইনভঙ্গ করে আদেশে মিথ্যা তথ্য লিখে একইদিনে জামিন দেওয়ার ঘটনায় নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করায় মোহাম্মদ ইসমাঈলকে অব্যাহতি দেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে আইন লঙ্ঘন করে জামিন দেওয়া ৯ আসামির জামিন কেন বাতিল করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত। বিচারক মো. হাবিবুল গনি ও বিচারক আহমেদ সোহেলের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
এর আগে পরপর দুদিন চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জামিন নাকচ হওয়া আসামিদের আইন ভঙ্গ করে আদেশে মিথ্যা তথ্য লিখে একই দিনে জামিন দেওয়ার ঘটনায় কক্সবাজার জেলা জজকে কঠোরভাবে ভর্ৎসনা করেন হাইকোর্ট।
২০ জুলাই শুনানিতে মোহাম্মদ ইসমাইলকে উদ্দেশ্য করে হাইকোর্ট বলেছেন, ‘আপনি একজন সিনিয়র জেলা জজ। দীর্ঘদিন বিচারকাজ করেছেন। আপনি আদালতের আদেশ টেম্পারিং করেছেন। এতে আপনার বুক কাঁপল না? টেম্পারিং করে আপনি ভুল করেননি। জেনে শুনে আপনি ক্রাইম করেছেন।’
বিচারক হাবিবুল গনি ও বিচারক আহমেদ সোহেলের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ মন্তব্য করেন।
শুনানিতে জেলা জজের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাঈদ আহমেদ রাজা বলেন, ‘আমরা কনটেস্ট করতে চাই না। আমরা আদালতের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাচ্ছি। আমরা খুবই অনুতপ্ত। এ পর্যায়ে হাইকোর্ট জেলা জজকে ডায়াসের সামনে ডেকে আদেশ টেম্পারিংয়ের বিষয়ে জানতে চান। তখন জেলা জজ বিভিন্ন ভাবে ব্যাখ্যা দিতে থাকেন। এক পর্যায়ে বলেন, ভুলে এটা হয়েছে। তখন আদালত বলেন, আপনি ভুল করেননি। আপনি জেনে-বুঝে ক্রাইম করেছেন।’
এ সময় তার আইনজীবীরা আবারও ক্ষমা চাইলে হাইকোর্ট বলেন, ‘আপনারা ক্ষমা চাচ্ছেন। অনুতপ্ত হচ্ছেন। কিন্তু জেলা জজের মধ্যে তো কোনো অনুশোচনা নেই। তিনি অনুতপ্তও নন। মন থেকে অনুশোচনা আসতে হয়।’