ঢাকায় বিএনপি-পুলিশের সংঘর্ষ
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩০ জুলাই ২০২৩ ১৫:০৮ পিএম
আপডেট : ৩০ জুলাই ২০২৩ ১৬:০৭ পিএম
শনিবার মাতুয়াইলে বিএনপির সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। প্রবা ফটো
ঢাকার প্রবেশমুখগুলোতে গতকাল শনিবার পুলিশের সঙ্গে বিএনপির সংঘর্ষের ঘটনায় রাজধানীর একাধিক থানায় ১১টি মামলা করেছে পুলিশ। এসব মামলায় বিএনপির ৫৪৯ নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এ ছাড়াও অজ্ঞাতপরিচয় অনেককে আসামি করা হয়েছে মামলায়।
রবিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে সংশ্লিষ্ট থানার কর্মকর্তাদের কাছ থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
তবে দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. ফারুক হোসেন জানান, এসব মামলায় ৪৬৯ জনকে আসামি করা হয়েছে।
বাস পোড়ানো, ভাঙচুর, বিস্ফোরক আইন ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় এসব মামলা করা হয়েছে। মামলাগুলো হয়েছে রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম, দারুস সালাম, উত্তরা পূর্ব, বংশাল ও সূত্রাপুর থানায়।
উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি মাসুদ আলী বলেন, ‘৩২ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা করা করা হয়েছে। ওই মামলার বাদী পুলিশ।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘অজ্ঞাতের কোনো সংখ্যা নেই। অসংখ্য আসামিকে অজ্ঞাত করা হয়েছে।’
উত্তরা পূর্ব থানার ওসি মো. কাজী নাসির উদ্দিন বলেন, ‘গতকালকের সংঘর্ষের ঘটনায় ৩৯ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে ওই মামলা তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।’ তিনিও বলেন, ‘অসংখ্য আসামিকে অজ্ঞাত রাখা হয়েছে।’
দারুস সালাম থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জামাল হোসেন বলেন, ‘গতকালকের ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।’ তবে কতজনকে আসামি করা হয়েছে তা তাৎক্ষণিক জানাতে পারেননি তিনি।
এদিকে লালবাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. জাফর হোসেন বলেন, ‘পুলিশ দুটি মামলা করেছে। মামলায় বিএনপির সাড়ে চারশ নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে। দুই মামলায় পাঁচজন করে মোট ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গ্রেপ্তার দেখিয়ে আজ রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।’
বংশাল থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এ থানায় করা মামলার আসামি ২৫ জন। মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় আসামি রয়েছে। মামলার বাদী উপপরিদর্শক (এসআই) নয়ন কুমার।
বংশাল থানার ওসি মঈনুল ইসলাম জানান, মামলায় এহাজারনামীয় আসামি করা হয়েছে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট নিপুণ রায় চৌধুরীসহ ২৪ নেতাকর্মীকে।
এছাড়া সূত্রাপুর থানার এসআই নাসির উদ্দিন হাওলাদারের করা মামলায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের আজ আদালতে পাঠানোর কথা রয়েছে। এ মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয়েছে আরও ৩০০/৪০০ জনকে।
এদিকে দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. ফারুক হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘গতকালকে ডিএমপি অনুমতি না দেওয়া সত্ত্বেও বিএনপি একটি বেআইনী সমাবেশ করে। সমাবেশ থেকে অগ্নিসংযোগ করে বাস ভাঙচুর করে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়, পুলিশের গাড়ি, এপিসি ভাঙচুর ও পুলিশের উপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং পুলিশের সরকারি কাজে বাধা দেওয়া হয়।’
তিনি জানান, এখন পর্যন্ত এসব মামলায় এজাহারে উল্লেখিত আসামি ৪৬৯ জন। মামলায় উল্লেখিত আসামিসহ অন্যান্য আসামি গ্রেপ্তার হয়েছেন ১৪৯ জন। ডিবি পুলিশ, ক্রাইম ডিভিশনসহ অন্যান্য বিভাগের টিম এই আসামিদের গ্রেপ্তার করেছে। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলেও জানান তিনি।
দায়ের করা এসব মামলার বাইরেও আরও কয়েকটি থানায় (দারুস সালাম, ডেমরা ও উত্তরা পশ্চিম থানা) মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানান তিনি।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ডিসি ফারুক হোসেন বলেন, ‘বিএনপি নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও আমানুল্লাহ আমানকে জিজ্ঞাসাবাদের পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তাদের কোনো মামলায় আসামি করা হয়েছে কিনা- তা মামলার এজাহার পর্যালোচনা করলে জানা যাবে।’
গতকালকে বিএনপির কর্মসূচির মধ্যে পুলিশের সঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদেরকে সশস্ত্র অবস্থায় ও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়তে দেখা গেছে। পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেবে কিনা- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘গতকাল আওয়ামী লীগের কর্মসূচি ছিল কিন্তু পুলিশের অনুমতি না থাকায় তারা তাদের কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেয়। বিএনপির কর্মসূচিতে বিএনপি নেতাকর্মীরা যখন পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ জড়ায় তখন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তাদের অবস্থান করেছেন। এখানে পুলিশের কার্যক্রমের সঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের কার্যক্রমে কোনো সম্পৃক্ততা নেই।’