প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৪ জুলাই ২০২৩ ১৯:৪১ পিএম
আপডেট : ২৪ জুলাই ২০২৩ ২০:০৯ পিএম
ফাইল ছবি
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় কারাগারে থাকা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে সব মামলা প্রত্যাহার করে অবিলম্বে জামিন দেওয়ার দাবি জানিয়ে বিবৃতি দেওয়ায় সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সভাপতি ও সম্পাদকের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার আবেদন করা হয়েছে। আবেদনে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিও এসেছে।
সোমবার (২৪ জুলাই) আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় আবেদনটি করেন সুপ্রিম কোর্টের চার আইনজীবী।
আবেদনকারী আইনজীবী মনিরুজ্জামান রানা বিষয়টি নিশ্চিত করেন। আবেদনকারী অন্য তিন আইনজীবী হলেন—মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ, মাহফুজুর রহমান রোমান ও শফিক রায়হান শাওন।
১০ জুলাই আপিল বিভাগ খাদিজাকে জামিন না দিয়ে তার জামিন আবেদন চার মাসের জন্য মুলতবি করেন। পরে ১২ জুলাই খাদিজার মুক্তি দাবি করে বিবৃতি দেয় সুজন।
বিবৃতিতে বলা হয়, কেবল সরকারবিরোধী প্রচারণা ও কটূক্তির অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থীকে মাসের পর মাস জামিন না দিয়ে কারাগারে আটকে রাখা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। এভাবে জামিন না দিয়ে খাদিজার মতো একজন শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন রাষ্ট্র কোনোভাবেই ধ্বংস করে দিতে পারে না। সুজনের পক্ষ থেকে খাদিজাকে অবিলম্বে জামিন দেওয়াসহ তার বিরুদ্ধে করা মামলাগুলো প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়।
গত ১৭ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তারের পর থেকে খাদিজার জামিনের আবেদন আদালতে বারবার খারিজ হচ্ছে। খাদিজাকে জামিন না দেওয়া চরম অমানবিক। যা নাগরিকের মৌলিক অধিকার খর্ব ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
খাদিজাতুল কুবরার জামিনের বিষয়ে গণমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের আলোচনা-সমালোচনা ও মতামত প্রকাশিত হয়েছে। ২১ জুলাই খাদিজার জামিন শুনানি মুলতবির ঘটনায় বাংলাদেশ উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী, বিবর্তন সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, গণসংস্কৃতি কেন্দ্র, সংহতি সংস্কৃতি সংসদসহ ৩১টি সাংস্কৃতিক সংগঠন উদ্বেগ জানায়।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী খাদিজা। অনলাইনে সরকারবিরোধী বক্তব্য প্রচারসহ দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণের অভিযোগে ২০২০ সালের অক্টোবরে খাদিজা ও অবসরপ্রাপ্ত মেজর দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দুটি মামলা হয়। একটি মামলা রাজধানীর কলাবাগান থানায়, অপরটি নিউমার্কেট থানায়। দুটি মামলার বাদী পুলিশ। এ মামলায় প্রায় ১১ মাস ধরে কারাগারে আছেন তিনি।