প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১২ জুলাই ২০২৩ ১৭:৪৯ পিএম
আপডেট : ১২ জুলাই ২০২৩ ১৮:০৫ পিএম
টাঙ্গাইল শহর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি গোলাম কিবরিয়া ওরফে বড় মনির। প্রবা ফটো
ধর্ষণ মামলায় টাঙ্গাইল শহর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি গোলাম কিবরিয়া ওরফে বড় মনিরকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালত। একই সঙ্গে ২১ আগস্ট এ বিষয়ে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠিয়েছেন আদালত।
এ সময়ের মধ্যে ধর্ষণের কারণে জন্ম নেওয়া শিশুর ও মনিরের ডিএনএ টেস্ট করে রিপোর্ট সর্বোচ্চ আদালতে জমা দিতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালত এম ইনায়েতুর রহিম বুধবার (১২ জুলাই) এ আদেশ দেন। ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সারওয়ার হোসেন বাপ্পি প্রতিদিনের বাংলাদেশকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, এর আগে এই মামলার বিচারক শেখ জাকির হোসেন ও বিচারক একেএম জহিরুল হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ মঙ্গলবার গোলাম কিবরিয়া ওরফে বড় মনিরকে জামিন দেন।
এক কিশোরী বাদী হয়ে ৫ এপ্রিল রাতে টাঙ্গাইল সদর থানায় গোলাম কিবরিয়ার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করে। গোলাম কিবরিয়ার স্ত্রী নিগার আফতাবকেও মামলায় আসামি করা হয়।
এজাহারে ওই কিশোরী উল্লেখ করেছে, গোলাম কিবরিয়া তার আত্মীয় ও পূর্বপরিচিত। সম্প্রতি পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে ভাইয়ের সঙ্গে ওই কিশোরীর বিরোধ সৃষ্টি হয়। এ বিরোধের বিষয়টি গোলাম কিবরিয়াকে জানানোর পর তিনি সমস্যা সমাধান করে দেওয়ার আশ্বাস দেন।
এজাহারে ওই কিশোরী (১৭) অভিযোগ করে, গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর গোলাম কিবরিয়া শহরের আদালতপাড়ায় নিজের বাড়ির পাশের একটি ভবনে ওই কিশোরীকে ডেকে নেন। সেখানে তার মুঠোফোন ছিনিয়ে নিয়ে গোলাম কিবরিয়া তাকে একটি কক্ষে আটকে রাখেন। পরে তাকে ধর্ষণ করে তার আপত্তিকর ছবি তুলে রাখা হয়। বিষয়টি কাউকে না বলার জন্য গোলাম কিবরিয়া তাকে ভয়ভীতি দেখান। আপত্তিকর ওই ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়।
মামলার এজাহারে আরও বলা হয়, একপর্যায়ে ওই কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। বিষয়টি গোলাম কিবরিয়া জানার পর গর্ভের সন্তান নষ্ট করার জন্য চাপ দিতে থাকেন। তবে ওই কিশোরী রাজি না হওয়ায় ২৯ মার্চ রাত আটটার দিকে গোলাম কিবরিয়া ওই কিশোরীকে তুলে নিয়ে আদালতপাড়ার একটি বাড়িতে যান। সেখানে একটি কক্ষে ওই কিশোরীকে তালাবদ্ধ করে রেখে গোলাম কিবরিয়া আবার ধর্ষণ করেন। এ ঘটনার পর গোলাম কিবরিয়ার স্ত্রী নিগার আফতাব ওই কিশোরীকে মারধর করেন।