প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৬ জুন ২০২৩ ১৫:০৩ পিএম
আপডেট : ২৬ জুন ২০২৩ ১৫:২৪ পিএম
সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম। ফাইল ফটো
সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে সরকারি নথি ‘চুরির চেষ্টার’ অভিযোগে অফিসিয়াল সিক্রেটস আইনে করা মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ পিছিয়ে আগামী ১০ আগস্ট ধার্য করেছেন আদালত।
সোমবার (২৬ জুন) আদালতের শাহবাগ থানার সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা উপপরিদর্শক নিজমুদ্দিন ফকির প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, রবিবার (২৫ জুন) মামলাটি অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ধার্য ছিল। এদিন মামলার তদন্ত সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন- পিবিআই প্রতিবেদন দাখিল না করায় ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুজ্জামান নুর প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নতুন দিন ধার্য করেন।
এর আগে গত ২৩ জানুয়ারি মামলার দায় থেকে রোজিনার অব্যাহতি চেয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদনের বিপক্ষে মামলার বাদীর অনাস্থার (নারাজি) আবেদন মঞ্জুর করেন আদালত। একইসঙ্গে পিবিআইকে মামলাটি অধিকতর তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়।
১৫ জানুয়ারি একই আদালতে রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে মামলায় কোনো সত্যতা না পাওয়ায় গোয়েন্দা পুলিশ- ডিবির দেওয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে শুনানির জন্য দিন ধার্য ছিল। তবে ওই দিন মামলার বাদী স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের উপসচিব শিব্বির আহমেদ ওসমানী নারাজি দাখিলের জন্য সময়ের আবেদন করলে বিচারক তা গ্রহণ করেন।
গত বছরের ৪ জুলাই সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে মামলার দায় থেকে অব্যাহতির আবেদন করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির পরিদর্শক মোর্শেদ আলম খান।
২০২১ সালের ১৭ মে দুপুরের পর স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিবের একান্ত সচিব মো. সাইফুল ইসলাম ভূঞার কক্ষে রোজিনাকে প্রায় সাড়ে ৫ ঘণ্টা আটকে রাখা হয়। রাত সাড়ে ৮টার দিকে তাকে শাহবাগ থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। পরে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের একজন উপসচিব তার বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলায় এ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি- ১৮৬০ এর ৩৭৯ ও ৪১১ ধারায় চুরি এবং অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টে-১৯২৩ এর ৩ ও ৫ ধারায় গুপ্তচরবৃত্তি ও রাষ্ট্রীয় গোপন নথি নিজের দখলে রাখার অভিযোগ আনা হয়।
এজাহারে বলা হয়, রোজিনা যেসব নথির ‘ছবি তুলেছেন’, তার মধ্যে ‘টিকা আমদানি’ সংক্রান্ত কাগজপত্রও ছিল। এরপর রোজিনা ইসলামকে আদালতে হাজির করে তাকে পাঁচদিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করে পুলিশ। শুনানি শেষে রিমান্ড আবেদন না মঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। এরপর তাকে কাশিমপুর কারাগারে নেওয়া হয়। একই বছরের ২৩ মে সকালে রোজিনাকে আদালত জামিন দেওয়ার পর বিকালে তিনি কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্ত হন।