প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২০ জুন ২০২৩ ১৭:২৭ পিএম
আপডেট : ২০ জুন ২০২৩ ১৮:০২ পিএম
হাইকোর্ট। সংগৃহীত ফটো
সাভারের বংশী নদীর পাড়ের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের পর ফের দখল হয়ে যাওয়ায় এর ব্যাখ্যা দিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাজহারুল ইসলামকে তলব করেছেন হাইকোর্ট। আগামী ১৮ জুলাই তাকে আদালতে হাজির হতে বলা হয়েছে। বিচারক জে বি এম হাসান ও বিচারক রাজিক আল জলিলের হাইকোর্ট বেঞ্চ মঙ্গলবার (২০ জুন) এ আদেশ দেন।
রিটকারী আইনজীবী ব্যারিস্টার বাকির হোসেন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, ‘বংশী নদীর জায়গা দখলমুক্ত করে সাভারের ইউএনওকে প্রতিবেদন দিতে বলেছিলেন হাইকোর্ট। কিন্তু তিনি প্রতিবেদন দাখিল করেননি। এমনকি নদীর জায়গা দখলমুক্ত করেননি। এ কারণে আমরা তার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার আবেদন করেছিলাম। আদালত সেই আবেদনের শুনানি নিয়ে সাভারের ইউএনওকে তলব করেছেন।’
‘সাভারের বংশী নদী : উৎসবের পর দখলের উৎসব’ শিরোনামে পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, মাত্র চার মাস আগে উচ্ছেদ অভিযানে দখলমুক্ত করা সাভারের বংশী নদীর জায়গা দখলের উৎসব শুরু হয়েছে। উচ্ছেদ করা টিনের স্থাপনার জায়গায় নজরদারির অভাবে এবার নির্মিত হচ্ছে পাকা স্থাপনা। তা-ও দিনের বেলায়। প্রশাসনকে ‘ম্যানেজ’ করতে ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির নামে দখলদারদের কাছ থেকে চাঁদা তোলা হচ্ছে। এই চাঁদা-বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় অর্ধকোটি টাকা বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এই দখল চলছে সাভারের নামা বাজার এলাকায়। ইউএনও বলেছেন, উচ্ছেদের পর কেউ দখল করলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জানা গেছে, হাইকোর্টের নির্দেশে বংশী নদীর তীরে সাভার নামা বাজার অংশে ২০২২ সালের ২৮-৩১ অক্টোবর পর্যন্ত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান চালানো হয়। চার দিনের এই অভিযানে ২৮৬ জন দখলদারের স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। অভিযানে নদীর ৪ একর জায়গা ও ৪০ শতাংশ খাসজমি দখলমুক্ত করা হয়। উচ্ছেদের তালিকার বাইরে আরও শতাধিক দখলদার রয়েছেন। যারা এখনও উচ্ছেদের আওতায় আসেননি। অথচ ২০১৫ সালে সাভার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছিল, বংশী নদীর তীরের সাভার নামা বাজার অংশে দখলদার রয়েছেন মাত্র ৬২ জন। প্রভাবশালীদের চাপ এবং আর্থিক সুবিধার কারণে অন্য দখলদারদের তথ্য গোপন করার অভিযোগ ওঠে।