প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২০ জুন ২০২৩ ১৩:২৮ পিএম
আপডেট : ২০ জুন ২০২৩ ১৪:৩১ পিএম
অবৈধ দখলে বংশী নদী। ছবি : সংগৃহীত
সাভার উপজেলায় বংশী নদীর পাড়ের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের পর আবার দখল হয়ে যাওয়ার ঘটনা ব্যাখ্যা দিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) তলব করেছেন হাইকোর্ট। আগামী ১৮ জুলাই তাকে সশরীরে আদালতে উপস্থিত হতে বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে রিট আবেদন শুনানিতে মঙ্গলবার (২০ জুন) বিচারপতি জেবিএম হাসান ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
রিট আবেদন করা আইনজীবী ব্যারিস্টার বাকির হোসেন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, হাইকোর্ট বংশী নদীর জায়গা দখলমুক্ত করে সাভারের ইউএনওকে প্রতিবেদন দিতে বলেছিলেন। কিন্তু তিনি প্রতিবেদন জমা দেননি। এমনকি নদীর জায়গা দখলমুক্ত করেননি। এ কারণে আমরা তার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার আবেদন করেছিলাম। আদালত সেই আবেদনের শুনানি নিয়ে সাভারের ইউএনওকে তলব করেছেন।
‘সাভারের বংশী নদী : উৎসবের পর দখলের উৎসব’ শিরোনামে পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, মাত্র চার মাস আগে উচ্ছেদ অভিযানে দখলমুক্ত করা সাভারের বংশী নদীর জায়গা দখলের উৎসব শুরু হয়েছে। উচ্ছেদ করা টিনের স্থাপনার জায়গায় নজরদারির অভাবে এবার নির্মিত হচ্ছে পাকা স্থাপনা। তা-ও দিনের বেলায়। প্রশাসনকে ‘ম্যানেজ’ করতে ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির নামে দখলদারদের কাছ থেকে চাঁদা তোলা হচ্ছে। এ চাঁদা-বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় অর্ধকোটি টাকা বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ দখল চলছে সাভারের নামাবাজার এলাকায়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেছেন, উচ্ছেদের পর কেউ দখল করলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
হাইকোর্টের নির্দেশে বংশী নদীর তীরে সাভার নামাবাজার অংশে ২০২২ সালের ২৮ থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান চালানো হয়। চার দিনের এ অভিযানে ২৮৬ জন দখলদারের স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। অভিযানে নদীর ৪ একর জায়গা ও ৪০ শতাংশ খাসজমি দখলমুক্ত করা হয়। উচ্ছেদের তালিকার বাইরে আরও শতাধিক দখলদার রয়েছেন। যারা এখনও উচ্ছেদের আওতায় আসেননি। অথচ ২০১৫ সালে সাভার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছিল, বংশী নদীর তীরের সাভার নামাবাজার অংশে দখলদার রয়েছেন মাত্র ৬২ জন। প্রভাবশালীদের চাপ এবং আর্থিক সুবিধার কারণে অন্য দখলদারদের তথ্য গোপন করার অভিযোগ ওঠে।