লক্ষ্মীপুর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৩ জুন ২০২৩ ১৭:৩৬ পিএম
আপডেট : ১৩ জুন ২০২৩ ১৮:০৭ পিএম
রায় ঘোষণার পর কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আবু ইউছুফকে কারাগারে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। প্রবা ফটো
লক্ষ্মীপুরে তানজিনা আক্তার নামে এক গৃহবধূকে আত্মহত্যার প্ররোচনা দেওয়ায় স্বামী আবু ইউছুফকে (২৯) সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা; অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
মঙ্গলবার (১৩ জুন) দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. রহিবুল ইসলাম এ রায় দেন।
লক্ষ্মীপুর জজ আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (পিপি) জসিম উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, দণ্ডিত ইউছুফের প্ররোচনায় তার স্ত্রী আত্মহত্যা করেছেন। আদালতে তা প্রমাণিত হয়েছে। এতে আদালত তাকে সাজা দিয়েছেন। রায়ের সময় আসামি উপস্থিত ছিলেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
এজাহার সূত্রে জানা গেছে, তানজিনা সদর উপজেলার দালালবাজার ইউনিয়নের খন্দকারপুর গ্রামের ফরিদ মিয়ার মেয়ে। ২০১৯ সালের ১৪ এপ্রিল একই গ্রামের ইউছুফের সঙ্গে তার ৩ লাখ টাকা দেনমোহরে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পর ইউছুফ তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন শুরু করেন। তানজিনার কাছে শ্বশুরবাড়ির লোকজন যৌতুকের টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তাকে অমানবিক নির্যাতন করা হয়। ২০২০ সালের ২৯ নভেম্বর ইউছুফ তাকে তালাক দেন। একই বছর ৩ ডিসেম্বর তানজিনা বাদী হয়ে ইউছুফ, তার ভাই ইদ্রিস ও মা শিরিন বেগমের বিরুদ্ধে যৌতুক নিরোধ আইনে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সদর আদালতে একটি মামলা করেন। পরে সামাজিকভাবে বৈঠকের মাধ্যমে তানজিনা মামলাটি প্রত্যাহার করে নেন।
২০২১ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তালাক প্রত্যাহার করে এফিডেভিডের মাধ্যমে ইউছুফ তানজিনাকে স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করেন। কিছুদিন পর আবার তার ওপর অত্যাচার শুরু করেন। যৌতুকের জন্য তাকে চাপ দেওয়া হয়। একপর্যায়ে ২০২১ সালের ২১ এপ্রিল শ্বশুর বাড়িতে ঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন তানজিনা। এ ঘটনায় ইউছুফসহ তিনজনকে আসামি করে তার দুলাভাই আনোয়ার হোসেন সদর থানায় হত্যা মামলা করেন।
২০২১ সালের ৩০ আগস্ট মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক নজরুল ইসলাম ইউছুফের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। অন্য দুই আসামি ইউছুফের ভাই ইদ্রিস ও মা শিরিনকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত ইউছুফকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেন।