প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১৩:৩৭ পিএম
আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১৩:৫৭ পিএম
ভূমি মন্ত্রণালয়ের সাবেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা কুতুব উদ্দিন আহমেদ।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের সাবেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা কুতুব উদ্দিন আহমেদকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন আদেশ ন্যায়সঙ্গত হয়নি বলে পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো. নূরুজ্জামানের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের তিন বিচারপতির বেঞ্চ মো. কুতুব উদ্দিন আহমেদের জামিন বাতিলের রায়ে এমন পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন।
বেঞ্চের অপর দুই সদস্য হলেন—বিচারপতি বোরহান উদ্দিন ও বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথ। সোমবার রায় প্রকাশের বিষয়টি দুদকের আইনজীবী খুরশিদ আলম খান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে নিশ্চিত করেছেন।
প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেন, ‘শুধুমাত্র বয়স ও শারীরিক অসুস্থতার বিষয় বিবেচনায় নিয়ে দণ্ডিত অপরাধীকে জামিন দেওয়ার সুযোগ নেই। এক্ষেত্রে অপরাধের গভীরতাও বিবেচনা করতে হবে।’
আদালত পর্যবেক্ষণে আরও বলেন, ‘শ্বশুরসহ কয়েকজন আত্মীয়ের নামে ১০ কাঠার একটি প্লট বরাদ্দ করে আত্মসাতের ঘটনায় ভূমি মন্ত্রণালয়ের সাবেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা কুতুব উদ্দিন আহমেদকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন আদেশ ন্যায়সঙ্গত হয়নি। এ জামিনের সিদ্ধান্ত ছিল অবিবেচনাপ্রসূত ও ন্যায়ভ্রষ্ট।’
আদালত বলেছেন, ‘জামিন দেওয়ার বিষয়টি আদালতের স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা। অপরাধ জামিনযোগ্য হলে বিচারাধীন আসামির জামিন নিশ্চিত করতে হবে। অপরাধ অজামিনযোগ্য হলে অসুস্থ ও জরাগ্রস্ত বন্দি, নারী ও শিশুর জামিন বিবেচনা করার সুযোগও আদালতের রয়েছে। এক্ষেত্রে বিচারাধীন বা দণ্ডিত আসামির জামিন মঞ্জুরের বিষয়টি পুরোপুরি ভিন্ন। একসঙ্গে মেলানোর সুযোগ নেই।’
জামিন বাতিলের পূর্ণাঙ্গ রায়ে আপিল বিভাগ আরও বলেছেন, ‘কোনো মামলায় জামিন দেওয়া বা না দেওয়া হাইকোর্টের স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা। কিন্তু যখন কোনো মামলায় যুক্তির বাইরে গিয়ে হাইকোর্ট জামিনের সিদ্ধান্ত দেন, তখনই আপিল বিভাগ হস্তক্ষেপ করে।’
উল্লেখ্য, ‘ভুয়া আমমোক্তারনামার মাধ্যমে প্লট আত্মসাতের মামলায় পাঁচ বছরের সাজা হয় কুতুবের। গত ১৪ জুলাই তাকে ছয় মাসের জামিন দেন হাইকোর্ট। হাইকোর্টের এ জামিনাদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করে দুদক।
পরে কুতুব উদ্দিন আহমেদকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বাতিল করেন আপিল বিভাগ। এই মামলায় চলতি বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি কুতুব উদ্দিন আহমেদকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত।
২০১৮ সালের ৮ এপ্রিল রাজধানীর গুলশান থানায় কুতুব উদ্দিনের বিরুদ্ধে মামলা করেন দুদকের উপ-পরিচালক মির্জা জাহিদুল আলম। পরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।’
কুতুব উদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি সরকারি কর্মকর্তা হওয়া সত্ত্বেও ভুয়া আমমোক্তারনামার মাধ্যমে গুলশানে ১০ কাঠার একটি প্লট তার শ্বশুরসহ কয়েকজনের নামে বরাদ্দ দিয়েছেন।
প্রবা/জিজি/ এসআর