চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ০৬ জুন ২০২৩ ২১:০১ পিএম
সংগৃহীত ফটো
ঋণ খেলাপির মামলায় ছেলেসহ এক ব্যবসায়ী দম্পতির বিরুদ্ধে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (৬ জুন) চট্টগ্রাম অর্থঋণ আদালতের বিচারক মুজাহিদুর রহমান এ আদেশ দেন। একই আদেশে আসামিদের আগামী ২১ জুন পাসপোর্টসহ আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা পাওয়া আসামিরা হলেন- আহমদ নবী চৌধুরী, তার স্ত্রী মমতাজ বেগম ও ছেলে এস এম জাহাাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
মামলার বাদী ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের আইনজীবী এবাদউল্লাহ এ তথ্য নিশ্চিত করেন। প্রতিদিনের বাংলাদেশকে তিনি বলেন, ‘আমাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত বিবাদীদের বিরুদ্ধে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন। বিবাদীরা যাতে দেশত্যাগ করতে না পারেন সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে ইমিগ্রেশন পুলিশকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
মামলার নথি অনুযায়ী, নিজেদের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান শাহ আমিন উল্লাহ লুব্রিকেন্টস অ্যান্ড গ্রিজ ইন্ডাস্ট্রিজ (প্রাইভেট) লিমিটেডের নামে ঋণ নিয়ে পরিশোধ না করায় আসামিদের বিরুদ্ধে ২০২১ সালে তিনটি মামলা করে ইসলামী ব্যাংক। তিনটি মামলায় আসামিদের কাছে ব্যাংকের বকেয়া ১৬৩ কোটি টাকা।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী রেজাউল করিম শাহেদ বলেন, বিবাদীদের ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা থাকার পরও খেলাপি ঋণ পরিশোধে এগিয়ে আসছেন না জানিয়ে তাদের বিরুদ্ধে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আদালতে আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে আদালত আবেদন মঞ্জুর করে বিবাদীদের বিরুদ্ধে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন। পাশাপাশি বাদী পক্ষের দরখাস্তের বিরুদ্ধে আপত্তি দাখিলের জন্য বিবাদীরা সময়ের আবেদন করলে সেটিও আদালত মঞ্জুর করেছেন। আগামী ২১ জুন বিবাদীগণকে পাসপোর্টসহ আদালতে হাজির হওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদেশ পর্যালোচনায় উল্লেখ করা হয়, মামলা হওয়ার পর দেড় বছর অতিবাহিত হওয়া পরও জবাব দাখিল না করে সময় ক্ষেপণের অপকৌশল নিয়েছেন বিবাদীরা। সন্তোষজনকভাবে সমন জারি হওয়ার পরও মামলায় নির্দিষ্ট তারিখে হাজির না হয়ে ২০২২ সালের ২২ নভেম্বর একতরফা শুনানির জন্য ধার্য হলে মামলায় হাজির হন। আদালতে হাজির হওয়ার ৬ মাসের বেশি সময় অতিবাহিত হলেও জবাব দাখিল করেননি, অথচ উপস্থিত হওয়ার সর্বোচ্চ ৬০ দিনের মধ্যে মামলায় জবাব দাখিল করার আইনগত বাধ্যবাধকতা রয়েছে।