প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৭ মে ২০২৩ ১৯:৫৮ পিএম
আপডেট : ১৭ মে ২০২৩ ২০:৩৮ পিএম
আদালতের নির্দেশ অমান্য করায় নেত্রকোণা পৌরসভার মেয়রকে তলব করেছেন হাইকোর্ট। আগামী ২২ মে তাকে স্বশরীরে আদালতে হাজির হতে বলা হয়েছে।
পৌর সুপার মার্কেটসংক্রান্ত একটি রিটের মামলার চূড়ান্ত শুনানির সময় বুধবার (১৭ মে) বিচারপতি মাহমুদুল হক ও বিচারপতি মো. মাহমুদ হাসান তালুকদারের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল কেএম মাসুদ রুমী প্রতিদিনের বাংলাদেশকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আদালতে আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার তৌফিক ইনাম। তাকে সহায়তা করেন অ্যাডভোকেট মো. অনিক হোসেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল কেএম মাসুদ রুমী।
ব্যারিস্টার তৌফিক ইনাম বলেন, ২০১২ সালে নেত্রকোণা পৌর সুপার মার্কেটে বরাদ্দগ্রহীতাদের বিদ্যমান এক তলা মার্কেট ভবনটি ভেঙে চার তলা করা হবে মর্মে ঘোষণা দিয়ে বরাদ্দগ্রহীতা ব্যবসায়ীদের ভবন খালি করার নোটিস দেন। ওই নোটিসের বিরুদ্ধে বরাদ্দগ্রহীতাদের পক্ষে লিপি হক ও অন্যান্যরা ওই বছরই রিট করেন। রিটের শুনানি নিয়ে ২০১৩ সালে রায় দেন হাইকোর্ট।
রায়ে বলা হয়, যেহেতু পৌর কর্তৃপক্ষ বিদ্যমান এক তলা মার্কেট ভবনটি অনতিবিলম্বে ভেঙে চার তলা করবে এবং সেখানে রিট আবেদনকারী বরাদ্দগ্রহীতাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বরাদ্দ দেওয়া হবে মর্মে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ওই প্রতিশ্রুতির পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট রিট আবেদনকারীদের মার্কেট ভবনটি ৩০ দিনের মধ্যে খালি করার নির্দেশ দেন এবং একই সঙ্গে নতুন ভবনের নিচতলায় এবং দ্বিতীয় তলায় দোকান বরাদ্দ দেওয়ার জন্য পৌর কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন। রিট আবেদনকারী-বরাদ্দগ্রহীতারা যথারীতি
নতুন মার্কেট ভবন নির্মাণের লক্ষ্যে দোকান খালি করে দিলেও বিগত ১০ বছরে পৌর কর্তৃপক্ষ মার্কেট ভবন করার কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেনি, বরং তা খালি ফেলে রেখেছেন।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে একদিকে যেমন সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে অসহায় বরাদ্দগ্রহীতারা দোকান তথা ব্যবসা হারিয়ে নিরুপায় হয়ে পড়েছেন। সে কারণে বরাদ্দগ্রহীতা লিপি হক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাসেম আজাদ পৌর কর্তৃপক্ষের প্রতিশ্রুতি ও সে অনুযায়ী হাইকোর্টের রায় প্রতিপালন না করায় ২০১৯ সালে আরেকটি রিট মামলা দায়ের করেন। ওই রিটের শুনানির সময় হাইকোর্ট বুধবার পৌর মেয়রকে তলব করেন।