সুনামগঞ্জ প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১১ এপ্রিল ২০২৩ ১৭:০২ পিএম
আপডেট : ১১ এপ্রিল ২০২৩ ১৭:৩১ পিএম
সুনামগঞ্জের হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধ। ছবি : সংগৃহীত
সুনামগঞ্জের হাওরের
ফসলরক্ষা বাঁধের কাজে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা
(ইউএনও) ও পানি
উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তাসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ জমা পড়েছে।
মঙ্গলবার (১১ এপ্রিল) সকালে অভিযোগটি করেন হাওর বাঁচাও আন্দোলনের সদস্য মো. শওকত
আলী। সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত দায়রা জজ (প্রথম আদালত) মহিউদ্দিন মুরাদ অভিযোগ গ্রহণ করেছেন। তবে কোনো আদেশ দেননি আদালত। গ্রহণযোগ্যতা শুনানির জন্য আগামী ২৭ এপ্রিল তারিখ ঠিক করেছেন বিচারক।
যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে তারা হলেন,
শাল্লার ইউএনও মো. আবু তালেব, পাউবোর উপজেলা কর্মকর্তা মো. আব্দুল কাইয়ূম,
হাবিবপুর ইউনিয়নের নারকিলা গ্রামের বাসিন্দা শান্ত কুমার দাশ, দামপুর গ্রামের বকুল
আহমেদ ও আনন্দপুর গ্রামের বিপ্লব রায়।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে,
চলতি বছরে শাল্লা উপজেলার ভান্ডাবিল হাওরের উপপ্রকল্পের আওতায় নতুন বৈশাখালী
ভাঙ্গা পর্যন্ত ১৪৬ মিটার ডুবন্ত বাঁধ মেরামতের জন্য একটি (২৭ নম্বর) প্রকল্প
বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) করা হয়। ২০২২ সালের ডিসেম্বরের মাঝামাঝিতে এই কমিটি করা
হয়। এই প্রকল্পে ২৪ লাখ ৭৩ হাজার ১০১ টাকা বরাদ্দ দেয় পাউবো। কাজের বিনিময়ে টাকা (কাবিটা) নীতিমালা-২০১৭
অনুযায়ী বাঁধের পাশে যাদের জমি আছে, এমন প্রকৃত কৃষক ও স্থানীয় সুবিধাভোগীদের নিয়ে
৫ থেকে ৭ সদস্যের পিআইসি গঠন করার কথা।
কিন্তু সেই নিয়ম না মেনে
শাল্লার হাবিবপুর ইউনিয়নের নারকিলা গ্রামের শান্ত কুমার দাশ, দামপুর গ্রামের বকুল
আহমেদ ও আনন্দপুর গ্রামের বিপ্লব রায়কে পিআইসির সভাপতি, সদস্য সচিব ও সদস্য করা
হয়। এই কমিটিতে ইউএনও ও পাউবোর কর্মকর্তারা দুর্নীতি করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ
করা হয়।
হাওর বাঁচাও আন্দোলনের সদস্য মো. শওকত আলী বললেন, শাল্লা পাউবোর এসও ও ইউএনও অবৈধ সুযোগ-সুবিধা নিয়ে শান্ত, বকুল ও বিপ্লবকে পিআইসি দিয়েছেন, অথচ বাঁধের পাশে তাদের কোনো জমি নেই, তারা নীতিমালা অমান্য করে পিআইসি দিয়েছেন। সরকারের টাকা নিয়ে এভাবে নয়-ছয় করার এখতিয়ার কারও নেই। তাই তিনি আদালতে মামলার আবেদন করেছেন।
আদালতের সহকারী সরকারি আইনজীবী (পিপি) নূরে আলম সিদ্দিকী উজ্জ্বল বলেন, আদালত অভিযোগ গ্রহণ করে কোনো আদেশ দেননি। নিয়মিত আদালত যোগদান-সাপেক্ষে আগামী ২৭ এপ্রিল আদেশের দিন ঠিক করেছেন।এ বিষয়ে শাল্লার ইউএনও
মো. আবু তালেব বলেন, ’পিআইসি গঠনের পরপরই কমিটির বিষয়ে অভিযোগ উঠেছিল, তখন কমিটির
সদস্য সচিবকে পরিবর্তন করা হয়। এখন যারা কমিটিতে আছেন, তাদের সবার হাওরে জমি
রয়েছে।’