মেহেরপুর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১১ এপ্রিল ২০২৩ ১৫:০৭ পিএম
আপডেট : ১১ এপ্রিল ২০২৩ ১৫:৩৪ পিএম
মঙ্গলবার (১১ এপ্রিল) সকালে মেহেরপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণে ন্যায়কুঞ্জের ভিত্তি স্থাপন করেন প্রধান হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। প্রবা ফটো
মামলাজট নিরসনে নতুন করে বিচারক নিয়োগের কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।
তিনি বলেছেন, বর্তমানে দেশে মামলার সংখ্যা ৪০ লাখ। বিচারক আছেন মাত্র দুই হাজার। মামলাজট কমিয়ে আনতে আরও ১০২ জন বিচারক নিয়োগ দেওয়া হবে। নিয়োগ প্রক্রিয়াটি এখন পুলিশ ভেরিফিকেশন পর্যায়ে আছে। আশা করছি, চলতি বছরের মধ্যেই এই নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হবে।
মঙ্গলবার (১১ এপ্রিল) সকালে মেহেরপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণে বিশ্রামাগার ‘ন্যায়কুঞ্জের’ ভিত্তি স্থাপন অনুষ্ঠনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিচারপ্রার্থীদের দুর্ভোগ লাঘবে এই বিশ্রামাগার নির্মাণ করা হচ্ছে।
হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী বলেন, ‘গত বছর সুপ্রিম কোর্টে ৮২ হাজার মামলা নথিভুক্ত হয়। এগুলোর ৭৯ হাজার নিষ্পত্তি হয়েছে। অর্থাৎ নিষ্পত্তির হার ৯৫ শতাংশ। আমরা চেষ্টা করছি, যত দ্রুত মামলাজট কমিয়ে আনা যায়। এজন্যই নতুন বিচারক নিয়োগ প্রক্রিয়া হাতে নেওয়া হয়েছে।’
ন্যায়কুঞ্জ নির্মাণের কারণ উল্লখ করে তিনি বলেন, ‘সাধারণ মানুষ রাষ্ট্রের মালিক। প্রতিদিন আদালতে হাজার হাজার মানুষ আসেন বিচারের আশায়। তাদের ঘণ্টার ঘণ্টার অপেক্ষা করতেন হয়। কারণ আদালতে বসা বা বিশ্রামের ব্যবস্থা নেই। অনেকে শিশু নিয়ে আসেন। ব্রেস্টফিডিং করাতে ঝামেলা হয়। তাই বিচারপ্রার্থীদের দুর্ভোগ লাঘব করতে ন্যায়কুঞ্জ নির্মাণ করা হচ্ছে।’
অনুষ্ঠান শেষে মেহেরপুর জেলার বিচারকদের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধান বিচারপতি। এ সময় তিনি বলেন, ‘আপনারা আরও পরিশ্রমী ও উদ্যোগী না হলে বিচারপ্রার্থীরা সঠিক সময়ের মধ্যে বিচার পাবে না। বার ও বেঞ্চের মধ্যে সমন্বয় থাকতে হবে। তা না হলে বিচারাঙ্গন অর্থবহ হবে না। সম্প্রতি দেশের বিভিন্নস্থানে বার ও বেঞ্চের মধ্যে কিছু ঘটনা আমাদের হতাশ করেছে।’
আইনজীবীদের উদ্দেশে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘বিচারকদের নিয়ে কোনো অভিযোগ থাকলে আপনারা সরাসরি আমাকে বলবেন। কিন্তু মানুষের সামনে বার ও বেঞ্চের সম্পর্ক নষ্ট করবেন না।’
ন্যায়কুঞ্জের ভিত্তি স্থাপনের সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, মেহেরপুর জেলা ও দায়রা জজ মো. শহীদুল্লাহ, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের বিচারক মো. তোহিদুল ইসলাম, মুখ্য বিচারিক হাকিম আবু বক্কর, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি কামরুল হাসান, সাধারণ সম্পাদক খ ম ইমতিয়াজ বিন হারুন জুয়েল, জেলা প্রশাসক মো. আজিজুল ইসলাম, পুলিশ সুপার রাফিউল আলম প্রমুখ।