প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১৯:১৬ পিএম
আপডেট : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১৯:৪০ পিএম
ফারাজ সিনেমার পোস্টার। সংগৃহীত
বাংলাদেশের সিনেমা হলসহ সব ধরনের অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ভারতীয় সিনেমা ‘ফারাজ’ মুক্তি না দেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে। রবিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রিটটির ওপর শুনানি শেষে বিচারপতি মো. খসরুজ্জমান ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবীরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ সোমবার (২০ ফেব্রুয়ারি) আদেশের দিন নির্ধারণ করেছেন।
২০১৬ সালের ১ জুলাই হলি আর্টিজান হামলার প্রেক্ষাপট নিয়ে নির্মিত হয় ভারতীয় সিনেমা ‘ফারাজ’। সেদিনের হামলায় নিহত অবিন্তার মা রুবা আহমেদের পক্ষে আইনজীবী মো. মোস্তাফিজুর রহমান রিটটি করেন। রিটে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজি) ও বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনসহ (বিটিআরসি) সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়। আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম। তাকে সহযোগিতা করেন ফারজানা খান নীলা। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল সেলিম আজাদ।
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার প্রতিদিনের বাংলাদেশকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ’ফারাজ সিনেমা নিয়ে রিট আবেদনের ওপর রবিবার শুনানি হয়েছে। সোমবার এ বিষয়ে আদেশ দেবেন হাইকোর্ট। সিনেমাটির মধ্যে কী ধরনের উপাদান আছে, তা রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের দেখতে বলেছেন আদালত।’
ভারতের ১০০ প্রেক্ষাগৃহে ৩ ফেব্রুয়ারি মুক্তি পেয়েছে ‘ফারাজ’। হংসল মেহতা পরিচালিত সিনেমাটি নির্মাণের পর থেকে বাংলাদেশের সিনেমা হলসহ অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে মুক্তি না দিতে দাবি জানিয়ে আসছিলেন অবিন্তা কবিরের মা রুবা আহমেদ। ভারতে এটি মুক্তিতে নিষেধাজ্ঞা বা স্থগিতাদেশ জারি করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন দিল্লি হাইকোর্ট। তবে আদালত শর্ত দিয়েছেন, ছবিটি পর্দায় দেখানোর সময় এই মর্মে একটি ‘ডিসক্লেইমার’ দিতে হবে যে, সিনেমাটি হলি আর্টিজানের জঙ্গি হামলার ঘটনার দ্বারা অনুপ্রাণিত হলেও এতে তুলে ধরা ঘটনাগুলো ‘সম্পূর্ণ কাল্পনিক’ (পিওর ওয়ার্ক অব ফিকশন)।
হলি আর্টিজান হামলায় নিহতদের অন্যতম অবিন্তা কবিরের মা রুবা আহমেদের অভিযোগ, সিনেমাটি বানিয়ে তার নিহত মেয়ের প্রাইভেসি লঙ্ঘন করা হয়েছে। পরিবারের কোনো সম্মতি নেওয়া হয়নি। সিনেমায় ভুল তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। এটির মুক্তি আটকাতে তিনি ভারতে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছিলেন। কিন্তু গত বছরের অক্টোবরে দিল্লি হাইকোর্টের একক বিচারপতির বেঞ্চ ফারাজ সিনেমার মুক্তির ওপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিতে অস্বীকৃতি জানান।