ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৯ জানুয়ারি ২০২৩ ১৯:৫৭ পিএম
আপডেট : ০৯ জানুয়ারি ২০২৩ ২০:১৮ পিএম
আদালত চত্বরে আইনজীবীদের প্রতিবাদ। প্রবা ফটো
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ও দায়রা জজ আদালত বর্জন অব্যাহত রেখেছেন আইনজীবীরা। গত চার কার্যদিবস ধরে বন্ধ রয়েছে আদালতের বিচারিক কার্যক্রম।পূর্বঘোষিত তিন কর্মসূচি শেষে আরও তিন কার্যদিবস আদালত বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন তারা। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন জেলার বিচার প্রার্থীরা।
জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি তানভীর ভূঁইয়া বলেন, ’পূর্বঘোষিত কর্মসূচি সোমবার (৯ জানুয়ারি) শেষ হলেও তাদের দাবি আদায় হয়নি। বিকালে এ নিয়ে সভা করেছে সমিতি। এতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, আরও তিন কার্যদিবস আদালত বর্জন কর্মসূচি পালন করবেন তারা।’
আইনজীবী সমিতির দাবিগুলো হলো—ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ও দায়রা জজ শারমিন নিগার, নারী ও শিশুনিযার্তন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মোহাম্মদ ফারুক এবং জেলা জজ আদালতের নাজির মোমিনুল ইসলামের অপসারণ।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, একটি মামলা নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া আদালতের বিচারক মোহাম্মদ ফারুকের সঙ্গে জেলা আইনজীবী সমিতির নেতাসহ একাধিক আইনজীবীর কথা কাটাকাটি হয়। সময় পার হওয়ায় নিয়ম অনুযায়ী মামলাটি নিতে অপারগতা প্রকাশ করায় ক্ষিপ্ত হন অনেক আইনজীবী। এ ঘটনায় গত ২৬ ডিসেম্বর সভা করে ১ জানুয়ারি থেকে ওই বিচারকের আদালত বর্জনের সিদ্ধান্ত নেয় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আইনজীবী সমিতি।
ঘটনার পর আদালতের কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ৪ জানুয়ারি থেকে কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত নেয় জেলা বিচার বিভাগীয় কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশন। তবে ওই দিন সন্ধ্যায় এক সভা করে সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন তারা। পরদিন ৫ জানুয়ারি থেকে আদালত বর্জনের ঘোষণা দেয় আইনজীবী সমিতি, যা এখনও চলমান।
এদিকে বিচারকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করায় জেলা আইনজীবী সমিতির তিন সদস্যকে সশরীরে তলব করেছেন হাইকোর্ট। আগামী ১৭ জানুয়ারি হাইকোর্টে তলব পাওয়া তিন আইনজীবী হলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মো. তানভীর ভূঁইয়া, সমিতির সম্পাদক (প্রশাসন) মো. আক্কাস আলী এবং আইনজীবী জুবায়ের ইসলাম।
এ বিষয়ে আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. মোস্তফা কামাল বলেন, ‘আমরা গত বুধবার অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মসূচি শুরু করেছিলাম। বিচার প্রার্থীদের ভোগান্তির কথা বিবেচনা করে পরদিনই আন্দোলন স্থগিত করেছি। এখন আইনজীবীরা আদালত বর্জন কর্মসূচি অব্যাহত রাখায় মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে। এ সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত আদালত আগের অবস্থায় ফিরবে না।’