প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৪ মিনিট আগে
জোবায়েদ হোসেন। ফাইল ছবি
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতা জোবায়েদ হোসাইন হত্যা মামলায় তিনজনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেছে পুলিশ। দীর্ঘ ৯ মাসের তদন্ত শেষে বংশাল থানা পুলিশ এই চার্জশিট জমা দেয়।
চার্জশিটভুক্ত আসামিরা হলেন— জোবায়েদের ছাত্রী বার্জিস শাবনাম বর্ষা (১৯), তার প্রেমিক মাহির রহমান (১৯) এবং মাহিরের বন্ধু ফারদীন আহম্মেদ আয়লান (২১)।
প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক কামাল হোসেন বুধবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও বংশাল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আশরাফ হোসেন ঢাকার আদালতের প্রসিকিউশন শাখায় এই চার্জশিট জমা দেন।
পুলিশের ভাষ্য, এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন বর্ষা। মাহির ছিলেন মূল হামলাকারী এবং আয়লান তাকে সহযোগিতা করেন।
চার্জশিট অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৯ অক্টোবর পুরান ঢাকার আরমানিটোলার ১৫ নম্বর নূরবক্স লেনের ‘রৌশান ভিলা’য় ছাত্রী বর্ষাকে পড়াতে গিয়ে খুন হন জোবায়েদ। সেদিন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বাসার নিচতলায় তাকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে ভবনের তিনতলার সিঁড়িতে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। ঘটনার পরদিন জোবায়েদের বড় ভাই এনায়েত হোসেন সৈকত বাদী হয়ে বংশাল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এটি কোনো তাৎক্ষণিক ঘটনা ছিল না। প্রায় এক মাস ধরে পরিকল্পনা, নজরদারি এবং ঘটনাস্থল পর্যবেক্ষণের পর হত্যাকাণ্ডটি ঘটানো হয়। তদন্তে উঠে এসেছে, বর্ষার সঙ্গে জোবায়েদ ও মাহির—উভয়েরই প্রেমের সম্পর্ক ছিল। জোবায়েদের কাছে থাকা বর্ষার কিছু ‘অন্তরঙ্গ মুহূর্তের’ ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ভয়ে তাকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেন বর্ষা ও মাহির।
চার্জশিটে ৫০ জন সাক্ষীর জবানবন্দি, সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ফরেনসিক রিপোর্ট এবং ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফলসহ বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক তথ্য-প্রমাণ সংযুক্ত করা হয়েছে। ডিএনএ রিপোর্টে ঘটনাস্থলে পাওয়া নমুনার সঙ্গে আসামি মাহিরের ডিএনএ-র মিল পাওয়া গেছে। এছাড়া মাহির ইতিপূর্বে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী ইশতিয়াক হোসেন জিপু বলেন, চার্জশিটটি বর্তমানে প্রসিকিউশন বিভাগের জিআরও শাখায় রয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এটি পর্যালোচনা করছেন। এরপর বিচারকের কাছে উপস্থাপন করে মামলার পরবর্তী বিচারিক কার্যক্রম শুরু হবে। পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ ও ডিএনএ রিপোর্ট থাকায় আসামিদের বের কোনো সুযোগ নেই।