রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৪ জুলাই ২০২৬ ১৮:০৫ পিএম
শেখ হাসিনা। ফাইল ছবি
অন্তর্বর্তী সরকারকে উৎখাত ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জয় বাংলা ব্রিগেডের জুম মিটিংয়ে অংশ নেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে অবশিষ্ট অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত। ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মঈন উদ্দিন চৌধুরীর আদালত মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) এই তারিখ নির্ধারণ করেন।
এ দিন কারাগারে আটক ২৪ আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। এর মধ্যে পুরুষ ২০ জন ও নারী ছিলেন চারজন। তাদের কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যে দিয়ে কাঠগড়ায় নেওয়া হয়। তাদের উপস্থিতিতে অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি শুরু হয়। কারাগারে থাকা কয়েকজন আসামির পক্ষে তাদের আইনজীবীরা অভিযোগ গঠন পেছানোর জন্য আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। অন্যান্য আবেদনও মঞ্জুর করে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়। সেই সঙ্গে জামিরুল ইসলাম বাবু নামের এক আসামি আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করলে আদালত নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
গত বছরের ২৭ মার্চ শেখ হাসিনাসহ ৭৩ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে আদালতে মামলাটি করেন সিআইডির সহকারী বিশেষ পুলিশ সুপার মো. এনামুল হক। তদন্ত শেষে ৩০ জুলাই ২৮৬ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। আদালত ১৪ আগস্ট পলাতকদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে এবং ১১ সেপ্টেম্বর তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। বিচার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে গত ১১ নভেম্বর মামলাটি মহানগর দায়রা জজ আদালতে পাঠানো হয়েছিল।
এই মামলাটি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯-এর বিচারক আব্দুস সালামের আদালতে অভিযোগ গঠন বিষয়ে শুনানির পর্যায়ে ছিল। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি বিচার দ্রুত ও নিষ্পত্তির জন্য মামলাটি ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মঈন উদ্দিন চৌধুরীর আদালতে পাঠানো হয়। ওই আদেশে বলা হয়, দ্রুত বিচার ও নিষ্পত্তির জন্য মামলাটি অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ-৩-এ বদলি করা হলো।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি রাব্বী আলমের নেতৃত্বে আয়োজিত জয় বাংলা ব্রিগেডের এক জুম মিটিংয়ে শেখ হাসিনা অংশগ্রহণ করেন। অভিযোগ রয়েছে, ওই সভায় তিনি নেতাকর্মীদের সামনে দেশবিরোধী বক্তব্য দেন এবং তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে উৎখাতের নির্দেশ দেন। এই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।
মামলার ২৮৬ জন আসামির মধ্যে ২৫৫ জনই পলাতক। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ভারতে চলে যাওয়ার পর থেকে সেখানেই অবস্থান করছেন। তাকেসহ ২৫৯ জনকে পলাতক দেখিয়েই মামলার কার্যক্রম চলছে।
বর্তমানে সাবিনা আক্তার তুহিনসহ ৩০ জন আসামি কারাগারে রয়েছেন, যাদের মধ্যে খুলনার যুবলীগ নেতা পারভেজ খান ইমন ও জয় বাংলা ব্রিগেডের বিভিন্ন বিভাগের প্রধানরা অন্তর্ভুক্ত। গত ২১ জানুয়ারি থেকে অভিযোগ গঠনের শুনানি শুরু হলে রাষ্ট্রপক্ষে পিপি ওমর ফারুক ফারুকী বক্তব্য পেশ করেন।