প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২ ঘণ্টা আগে
মহানগর দায়রা জজ আদালত। ফাইল ছবি
ঢাকার পুরান ঢাকার মিটফোর্ড এলাকায় ভাঙারি ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে মো. সোহাগ (৩৯) হত্যার ঘটনায় ২১ আসামির বিরুদ্ধে চার্জগঠন (অভিযোগ গঠন) করেছে আদালত।
ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মোসাদ্দেক মিনহাজ রবিবার এই আদেশ দেন।
এর মধ্য দিয়ে এই চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হলো। আগামী ১৯ জুলাই মামলাটির সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী এ এস এম শাহাদাৎ আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আদালত সূত্র জানায়, রবিবার শুনানিকালে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা মামলা থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ এর বিরোধিতা করে। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত অব্যাহতির আবেদন নামঞ্জুর করে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন। এ সময় কাঠগড়ায় উপস্থিত আসামিরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচারের প্রার্থনা করেন।
বিচার শুরু হওয়া আসামিরা হলেন— মো. মাহমুদ হাসান মাহিন ওরফে মাহমুদুল হাসান, মো. তারেক রহমান রবিন, মো. টিটন গাজী, মো. আলমগীর, মো. মনির ওরফে লম্বা মনির, মো. সজীব বেপারী, মো. নানু কাজী, মো. রিজওয়ান উদ্দীন ওরফে অভিজিৎ বসু, মো. জহিরুল ইসলাম ও সাগর। মামলার ২১ আসামির মধ্যে প্রথম ১০ জন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। তিনজন উচ্চ আদালত থেকে জামিনে আছেন এবং বাকি আটজন পলাতক।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৯ জুলাই সন্ধ্যা ৬টার দিকে মিটফোর্ড হাসপাতালের ৩ নম্বর গেট সংলগ্ন রজনী ঘোষ লেনে ব্যবসায়ী সোহাগকে একদল লোক পাথর দিয়ে আঘাত করে এবং কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে। পরদিন ১০ জুলাই নিহতের বোন মঞ্জুয়ারা বেগম বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় ১৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১৫-২০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
তদন্ত শেষে গত বছরের ৮ ডিসেম্বর কোতোয়ালি থানার তৎকালীন অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনিরুজ্জামান ২১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। তবে চার্জশিটে কিছু ত্রুটি থাকায় আদালত পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে চলতি বছরের ১০ মে কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক শাহ মো. ফয়সাল আহমেদ ২১ জনকেই অভিযুক্ত করে সম্পূরক চার্জশিট জমা দেন।
নিহত সোহাগ কেরানীগঞ্জ মডেল থানার পূর্ব নামাবাড়ি গ্রামের ইউসুফ আলী হাওলাদারের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে মিটফোর্ড এলাকায় ব্যবসার পাশাপাশি বসবাস করে আসছিলেন।