ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
কেরানীগঞ্জে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী শাহানুর আক্তারকে গলা কেটে হত্যার দায়ে স্বামী মো. জাহাঙ্গীর আলমকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে।
অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান বৃহস্পতিবার এ রায় ঘোষণা করেন।
রায় ঘোষণার পর সাজা পরোয়ানা জারি করে আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. এরশাদ আলম জর্জ।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, প্রথম স্বামীর মৃত্যুর পর প্রায় ১১-১২ বছর আগে জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে শাহানুর আক্তারের দ্বিতীয় বিয়ে হয়। তারা কেরানীগঞ্জ মডেল থানার খালপাড় এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।
দিনমজুরির পাশাপাশি ময়লা সংগ্রহের কাজ করা জাহাঙ্গীর নিয়মিত মাদক সেবন করতেন এবং স্ত্রীর কাছে যৌতুক দাবি করতেন। এ নিয়ে তাদের সংসারে প্রায়ই বিরোধ লেগে থাকত বলেও মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়।
মামলার বিবরণ থেকে আরও জানা যায় ২০১৮ সালের ১৯ নভেম্বর রাতে যৌতুকের টাকা নিয়ে তাদের মধ্যে আবারও ঝগড়া হয়। স্বজনরা বিষয়টি মীমাংসা করে দিলে তারা নিজ নিজ কক্ষে ঘুমাতে যান।
পরদিন সকালে শাহানুরের ছেলে-মেয়ে কক্ষের দরজা বাইরে থেকে বন্ধ দেখতে পান। দরজা খুলে খাটের ওপর গলাকাটা অবস্থায় শাহানুরের মরদেহ উদ্ধার করেন তারা। ঘটনার পর থেকে জাহাঙ্গীর পলাতক ছিলেন বলেও উল্লেখ করা হয়।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই জামাল উদ্দিন কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
তদন্ত শেষে ২০১৯ সালের ১৪ জুন পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।
বিচার চলাকালে ছয়জন সাক্ষীর সাক্ষ্য, আলামত ও উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক পর্যালোচনা শেষে ট্রাইব্যুনাল জাহাঙ্গীরকে দোষী সাব্যস্ত করে এ রায় দেন।