রায় ঘোষণার পর সাজা পরোয়ানা জারি করে রাশেদ সরকারকে কারাগারে পাঠানো হয়। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) তৎকালীন জুনিয়র লাইসেন্স ইন্সপেক্টর অ্যান্ড কনসালট্যান্ট এইচ এম রাশেদ সরকারকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাভোগ করতে হবে।
বৃহস্পতিবার ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন এ রায় ঘোষণা করেন।
আদালত অর্থদণ্ডের অর্থ অভিযোগকারীকে পরিশোধের নির্দেশও দিয়েছেন।
এর আগে ঘুষ গ্রহণের সময় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ফাঁদে ধরা পড়ান রাশেদ।
রায় ঘোষণার সময় জামিনে থাকা রাশেদ সরকার আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায় ঘোষণার পর সাজা পরোয়ানা জারি করে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের কৌঁসুলি মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ৬ মার্চ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়। বিচার চলাকালে ২৪ জন সাক্ষীর মধ্যে ২৩ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।
পরে আসামি আত্মপক্ষ সমর্থনে বক্তব্য ও সাফাই সাক্ষ্য দেন। উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে আদালত এ রায় দেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৮ সালে কমার্শিয়াল পাইলট লাইসেন্সের (সিপিএল) প্রথম ধাপ ‘এয়ার ল’ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন রাকিব হাসান। পরবর্তী ধাপ ‘কম্পোজিট’ পরীক্ষায় অংশ নিতে ২০১৯ সালের ২ সেপ্টেম্বর তিনি নির্ধারিত চার হাজার টাকা জমা দিয়ে আবেদন করেন।
তবে রাশেদ সরকার অনলাইন সিস্টেমে আবেদনটি বাতিল করে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে রাকিবের কাছে এক লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন বলেও নথিতে উল্লেখ করা হয়।
এরপর ২০১৯ সালের ৬ ডিসেম্বর ঢাকার উত্তরার ১৩ নম্বর সেক্টরের একটি রেস্তোরাঁয় ঘুষের টাকা গ্রহণের সময় দুদকের ফাঁদ টিম তাকে হাতেনাতে আটক করে।
এ ঘটনায় সেদিনই মামলা দায়ের করা হয়। তদন্ত শেষে ২০২২ সালের ৬ জুন দুদক আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।