সরকারি প্লট আত্মসাৎ মামলা
আব্দুস সালাম মুর্শেদী। ফাইল ছবি
ঢাকার গুলশান-২ আবাসিক এলাকার ২৭ কাঠা সরকারি প্লট দখলের অভিযোগে করা মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম মুর্শেদীসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে বিচার শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯-এর বিচারক মো. আব্দুস সালাম সোমবার আসামিদের অব্যাহতির আবেদন খারিজ করে অভিযোগ (চার্জ) গঠনের আদেশ দেন।
একই সঙ্গে আগামী ১৯ আগস্ট সাক্ষ্যগ্রহণের দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।
এদিন মামলার অভিযোগ গঠনের বিষয়ে আদেশ ঘোষণার তারিখ ছিল।
আসামিদের মধ্যে সালাম মুর্শেদী কারাগারে থাকলেও অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে শুরুতে তাকে আদালতে হাজির করা হয়নি। কারা কর্তৃপক্ষ বিষয়টি আদালতকে জানায়।
বেলা ১১টা ১০ মিনিটের দিকে শুনানি শুরু হলে বিচারক এ বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
কারা কর্তৃপক্ষ ও প্রসিকিউশনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়ার দুই ঘণ্টার মধ্যে আদালতে হাজির করা হলো খুলনা-৪ (রূপসা-তেরখাদা-দিঘলিয়া) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম মুর্শেদীকে।
মামলার অপর আসামি মাহবুবুল হকের আইনজীবী অ্যাডভোকেট খাদেমুল ইসলাম বলেন, “এই সময় বিচারক বলেন, জেল সুপার প্রত্যয়ন দেওয়ার কে। তিনি কি চিকিৎসক। তিনি কীভাবে বুঝলেন, তার হেলথ কন্ডিশনের কথা।
“এক ঘণ্টা সময় দিলাম, আসামিকে হাজির করবেন। তা না হলে আমি প্রসিকিউশন, কারা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।”
খাদেমুল ইসলাম বলেন, “পরে আদালত থেকে কারা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগযোগ করা হয়। জানানো হয় আদালতের সিদ্ধান্তের কথা।
“আদালতের সিদ্ধান্ত জানানোর পর দুই ঘণ্টার মধ্যে সালাম মুর্শেদীকে হাজির করে কারা কর্তৃপক্ষ।”
আইনজীবী খাদেমুল ইসলাম দাবি করেন, আদালতে উপস্থিত হওয়ার সময় সালাম মুর্শেদীকে অত্যন্ত বিমর্ষ ও শারীরিকভাবে দুর্বল দেখাচ্ছিল।
এ মামলায় বিচার শুরু হওয়ো অন্য আসামিরা হলেন রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান হুমায়ুন খাদেম, প্রকৌশলী এম আজিজুল হক, সাবেক সদস্য (এস্টেট) লে. কর্নেল (অব.) এম নুরুল হক, সাবেক পরিচালক আবদুর রহমান ভূঁঞা, সাবেক উপপরিচালক (এস্টেট) মো. আজহারুল ইসলাম, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক মো. হাবিব উল্লাহ, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাবেক সহকারী সচিব আবদুস সোবহান, সাবেক শাখা সহকারী মো. মাহবুবুল হক, কক্সবাজারের রামুর বাসিন্দা মীর মোহাম্মদ হাসান, তার ভাই মীর মো. নুরুল আফছার, ইফফাত হক এবং তার স্বামী মোহাম্মদ আব্দুল মঈন।
এর আগে গত ২০ মে অভিযোগ গঠনের শুনানি শেষ হয়। সেই শুনানি শেষে সোমবার আদালত আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার শুরুর আদেশ দেন।
মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, আসামিরা পরস্পরের যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের গেজেটে পরিত্যক্ত সম্পত্তি হিসেবে তালিকাভুক্ত গুলশান আবাসিক এলাকার সিইএন (ডি)-২৭ নম্বর, হোল্ডিং-২৯, সড়ক-১০৪–এর ২৭ কাঠা সরকারি প্লট অবমুক্ত না করেই জাল কাগজপত্র তৈরি করেন।
পরে ওই নথির ভিত্তিতে হস্তান্তর ও নামজারির অনুমোদন দিয়ে সরকারি সম্পত্তি আত্মসাতের সুযোগ সৃষ্টি করা হয় বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
দুদক ২০২৪ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি এ ঘটনায় মামলা দায়ের করে। পরে তদন্ত শেষে গত ৩১ ডিসেম্বর সালাম মুর্শেদীসহ ১৩ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়।
এর আগে ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকেই সালাম মুর্শেদী কারাগারে রয়েছেন।