ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মঞ্জুরুল ইসলাম আদালত শুক্রবার সাবেক এমপি আশিকা সুলতানের বিরুদ্ধে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ছবি: সংগৃহীত
মিরপুর মডেল থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার সাবেক এমপি আশিকা সুলতানাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মঞ্জুরুল ইসলাম আদালত শুক্রবার এ আদেশ দেন।
এদিন আসামি আশিকা সুলতানাকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন এসআই আল মামুন হোসেন।
রাষ্ট্রপক্ষে প্রসিকিউটর আজিজুল হক দিদার রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে বলেন, “এ আসামি ফ্যাসিস্ট আমলে বিপুল অর্থের মালিক হয়েছে। ছাত্রলীগ-যুবলীগকে নেই অর্থ যোগান দিয়ে মিছিল, মিটিং করাচ্ছে।
“আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সেই অর্থ যোগান দিয়ে জানান দিতে চেয়েছে। তার সাত দিনের রিমান্ড প্রার্থনা করছি।”
আশিকা সুলতানার পক্ষে তার আইনজীবী মোকছেদুল হাসান মন্ডল রিমান্ড বাতিল করে জামিন প্রার্থনা করেন।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সবাই পলাতক। কিন্তু আশিকা সুলতানা বাসায় অবস্থান করেন। চলতি বছরের ১৯ জুন সকালে মিছিল-মিটিং হওয়ারি ৬ দিন পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মোকছেদুল হাসান দাবি করেন, আশিকা সুলতানা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত না। রিমান্ড হওয়ার মত যৌক্তিক কারণ নেই।
শুনানির পর আদালত আশিকা সুলতানাকে তিন দিনের রিমান্ডের আদেশ দেয়।
প্রসিকিউশন পুলিশের এসআই রফিকুল ইসলাম রিমান্ডের তথ্য জানিয়েছেন।
আবেদনে বলা হয়, “আসামিরা কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সক্রিয় সদস্য ও সমর্থক। তারা পরস্পর যোগসাজসে আইনশৃঙ্খলা বিনষ্ট করার জন্য ও বড় ধরনের অঘটন ঘটানোর উদ্দেশ্যে একত্রিত হয়ে সমাবেশ আয়োজন করে।”
আসামিরা একত্রিত হয়ে বাংলাদেশের অখন্ডতা, সংহতি, জননিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব বিপন্ন করার জন্য জনসাধারনের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য সন্ত্রাসী কার্যক্রমের যড়যন্ত্র করে বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
আশিকা সুলতানা মামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলেও মামলার আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এর আগে, বৃহস্পতিবার রাত ১১ টা ৫০ মিনিটের দিকে ঢাকার মিরপুরের সাড়ে ১১ নম্বর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, গত ১৯ জুন মিরপুর এক নম্বরের এপেক্স শোরুম সংলগ্ন বাটা শোরুমের সামনের রাস্তায় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের ৪০ থেকে ৫০ জন সরকারবিরোধী মিছিল করে।
এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে উপস্থিত আসামিরা তাদের কাছে থাকা বিভিন্ন ব্যানার ফেস্টুন রেখে পালিয়ে যায় বলেও মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়।