প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২ ঘণ্টা আগে
আপডেট : ২ ঘণ্টা আগে
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার আসামি সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসসহ ঘটনায় জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত ফারহান ফাইয়াজের বাবা শহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া। ছবি: ফেসবুক থেকে
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় মোহাম্মদপুর এলাকায় সংঘটিত ৯ জন হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় প্রথম সাক্ষী হিসেবে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন ফারহান ফাইয়াজের বাবা শহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া।
জবানবন্দিতে তিনি নানক-তাপসসহ ঘটনায় জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর সদস্য বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বেঞ্চে বুধবার তার সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।
বেঞ্চের অপর সদস্য ছিলেন বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
মামলাটিতে সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসসহ মোট ২৮ জন আসামি রয়েছেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মারা যাওয়া ফারহান ফাইয়াজ ঢাকার রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই ধানমন্ডিতে কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি নিহত হন।
এ মামলায় প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন প্রসিকিউটর সহিদুল ইসলাম সরদার। তার সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর তারেক আবদুল্লাহ, আবদুস সাত্তার পালোয়ান, মঈনুল করিমসহ অন্যরা।
বর্তমানে মামলার ২৮ আসামির মধ্যে ৪ জন গ্রেপ্তার রয়েছেন। তারা হলেন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মোহাম্মদপুর থানা শাখার সভাপতি নাঈমুল হাসান রাসেল, সহ-সভাপতি সাজ্জাদ হোসেন, ওমর ফারুক ও ফজলে রাব্বি।
অন্যদিকে, মামলার বাকি আসামিরা পলাতক রয়েছেন। তাদের মধ্যে তৎকালীন ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি প্রলয় কুমার জোয়ারদার, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার-সহ আরও অনেকে রয়েছেন।
এর আগে গত ১০ মে প্রসিকিউশনের দাখিল করা ৩টি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) আমলে নিয়ে ২৮ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল-১। এর মধ্য দিয়ে মামলার বিচার কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। অভিযোগ গঠনের সময় গ্রেফতার ৪ আসামি নিজেদের নির্দোষ দাবি করে আদালতের কাছে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেন।
প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৮ ও ১৯ জুলাই ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা আন্দোলনকারীদের ওপর নৃশংস হামলা চালায়। আসামিদের নির্দেশনা, উসকানি ও প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ সহযোগিতায় ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালানো হয়। এতে মাহমুদুর রহমান সৈকত, ফারহান ফাইয়াজসহ ৯ জন নিহত এবং আরও অনেকেই আহত হন।