রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৭ জুন ২০২৬ ১৯:৪৩ পিএম
আপডেট : ১৭ জুন ২০২৬ ১৯:৫০ পিএম
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ফাইল ফটো
জয় বাংলা ব্রিগেডের জুম মিটিংয়ে অংশ নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারকে উৎখাত ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় আংশিক অভিযোগ গঠন শুনানি হয়েছে । অবশিষ্ট শুনানির জন্য আগামী ১৪ জুলাই দিন ধার্য করেছে আদালত।
ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মঈন উদ্দিন চৌধুরীর আদালতে আংশিক শুনানি বুধবার অনুষ্ঠিত হয়।
এদিন কারাগারে আটক ২৬ আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। এর মধ্যে পুরুষ ২১ জন এবং নারী ছিলেন পাঁচজন। এরপর শুনানিতে তাদের কাঠগড়ায় নেওয়া হয়। তাদের উপস্থিতিতে অভিযোগ গঠন শুনানি শুরু হয়। আসামি সাবিনা আক্তার তুহিনসহ কয়েকজনের পক্ষে আইনজীবীরা অব্যাহতি চেয়ে শুনানি শেষ করেন। অপরদিকে কয়েকজন আসামির সময়ের আবেদন মঞ্জুর করে আদালত।
এই মামলায় শেখ হাসিনাসহ মোট ২৮৬ জনকে আসামি করা হয়। তাদের মধ্যে শেখ হাসিনাসহ ২৫৯ জন পলাতক।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মিটিংয়ে ‘জয় বাংলা ব্রিগেড’ গঠন করে একটি গৃহযুদ্ধের মাধ্যমে পলাতক শেখ হাসিনাকে পুনরায় প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা বুঝিয়ে দেয়া এবং তা নিশ্চিতকরণের জন্য শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত যুদ্ধ করে যাবেন বলে অনেকেই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। মোট ৫৭৭ জন অংশগ্রহণকারী দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে উক্ত জুম মিটিংয়ে অংশগ্রহণ করে এবং শেখ হাসিনার সমস্ত নির্দেশ পালন করার ব্যাপারে একাগ্রচিত্তে মত প্রকাশ করেন। ড. রাব্বি আলমের (যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি) হোস্টিং এ সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং হোস্ট, কো-হোস্ট ও অংশগ্রহণকারী নেতা-কর্মীদের কথোপকথনে ভয়েস রেকর্ড পর্যালোচনায় ‘জয় বাংলা ব্রিগেড’ নামক প্লাটফর্মে দেশ-বিদেশ থেকে অংশগ্রহণকারীগণ বৈধ সরকারকে শান্তিপূর্ণভাবে দেশ পরিচালনা করতে দিবে না মর্মে আলোচনা হয়।
সেই সঙ্গে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম মিটিং এ বর্তমান সরকারকে উৎখাত করার জন্য গৃহযুদ্ধের ঘোষণা দিয়ে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অপরাধের সুস্পষ্ট উপাদান রয়েছে মর্মে প্রতীয়মান হওয়ায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের প্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ২৭ মার্চ শেখ হাসিনাসহ ৭৩ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে আদালতে মামলাটি দায়ের করেন সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার মো. এনামুল হক। এরপর সিআরপিসির ১৯৬ ধারায় ক্ষমতাপ্রাপ্ত হয়ে সিআইডির এই কর্মকর্তাকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়।