ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমানের আদালতে মঙ্গলবার আবুল বারকাতের জামিন আবেদনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
জুলাই আন্দোলন কেন্দ্রিক ঢাকার নীলক্ষেত এলাকায় ব্যবসায়ী আব্দুল ওয়াদুদ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবুল বারকাতের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত।
ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমানের আদালত মঙ্গলবার জামিন মঞ্জুর করেন।
গত রবিবার এ মামলায় আবুল বারকাতকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তার আইনজীবী জামিন চেয়ে আবেদন করলে আদালত আবুল বারকাতকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়ে জামিন শুনানির দিন সোমবার ধার্য করেন।
এরপর মঙ্গলবার দুপুরে আবার জামিন চেয়ে আবারও আবেদন করা হলে আদালত ৫ হাজার টাকা বন্ডে পুলিশ রিপোর্ট পর্যন্ত জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন।
প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মাজহারুল ইসলাম এ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এদিন আবুল বারকাতের পক্ষে তার আইনজীবী শাহীনুর ইসলাম জামিন চেয়ে শুনানি করেন।
তিনি বলেন, “কী কারণে তাকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলো, ঘটনার সঙ্গে তার কী সম্পৃক্ততা রয়েছে তা আমাদের জানা নেই। তার অসুস্থতা ও বয়স বিবেচনায় জামিন প্রার্থনা করছি। আর তিনি যে ব্যক্তি তাতে তার এই ঘটনার সঙ্গে কোনও সম্পর্ক থাকার, কোনোভাবে জড়িত থাকার কথা নয়। তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনও অভিযোগও নেই”।
এদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামছুদ্দোহা সুমন জামিনের বিরোধিতা করেন।
গত ১০ জুলাই রাতে ধানমন্ডির ৩ নম্বর সড়কের বাসা থেকে আবুল বারকাতকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। জালিয়াতির মাধ্যমে জনতা ব্যাংক থেকে অ্যাননটেক্স গ্রুপের নামে ২৯৭ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাতের মামলায় পরদিন তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
গত ৭ জুন দুদকের এ মামলায় আপিল বিভাগ থেকে জামিন পান আবুল বারকাত। নিজের পাসপোর্ট আদালতে জমা দেওয়ার শর্তে তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করে আপিল বিভাগ। জামিন পেলেও কারাগার থেকে মুক্তি পাননি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এ অধ্যাপক। ওইদিন জুলাই আন্দোলনের সময়কার আব্দুল ওয়াদুদ হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন ডিবি পুলিশ।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকেলে নিউমার্কেট থানাধীন নীলক্ষেত এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে গুলিতে ব্যবসায়ী আব্দুল ওয়াদুদ নিহত হন।
ঘটনার পর নিহতের শ্যালক আব্দুর রব বাদী হয়ে ওই বছরের ২১ আগস্ট নিউমার্কেট থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় শেখ হাসিনা ও ওবায়দুল কাদেরসহ মোট ১৩০ জনকে আসামি করা হয়।