আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
রামিসা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের বিচার মাত্র ছয় কার্যদিবসে সম্পন্ন হওয়াকে দেশের বিচারিক ইতিহাসে প্রথম বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
চাঞ্চল্যকর এই মামলার রায় পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় সচিবালয়ে রবিবার দুপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
এ সময় তিনি ঘটনাটিকে জাতির জন্য গভীর দুঃখ ও বেদনার আখ্যা দিয়ে জানান, ভুক্তভোগীকে আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব না হলেও সরকার ন্যায়বিচার নিশ্চিতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়েছে।
আইনমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী এক মাসের মধ্যে এই বিচারকাজ সম্পন্ন করার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে। বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে ভবিষ্যতে যেন কোনো ধরনের প্রশ্ন বা বিতর্ক না ওঠে, সেদিকে লক্ষ্য রেখে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকেই আসামিদের জন্য আইনজীবী নিয়োগ দেয়া হয়েছিল।
মাত্র ছয় দিনে বিচারকাজ শেষের এই অভাবনীয় সাফল্যকে তিনি উপমহাদেশের ১৮৮২ সালে নদীয়ায় একদিনে একটি হত্যা মামলার বিচার সম্পন্ন হওয়ার ঐতিহাসিক দৃষ্টান্তের সঙ্গে তুলনা করেন।
ঘোষিত রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে মন্ত্রী আশা করেন, উচ্চ আদালতেও এই রায় বহাল থাকবে। তিনি জানান, আইনগত প্রক্রিয়া মেনে আগামী সাত দিনের মধ্যেই ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্ট বিভাগে পাঠানো হবে। এরপর সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানে পেপারবুক প্রস্তুত করে ধারাবাহিকভাবে মৃত্যুদণ্ড সংক্রান্ত মামলাগুলো নিষ্পত্তি করা হবে।
আছিয়া, রাজন, রাকিব ও রামিসার মতো চাঞ্চল্যকর মামলাগুলোর ডেথ রেফারেন্স দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য প্রধান বিচারপতি আরও ফোকাসড বা বাড়তি উদ্যোগ নেয়ার কথা বলেছেন বলেও মন্ত্রী উল্লেখ করেন।
আইনমন্ত্রী নিজেও উচ্চ আদালতে এই মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য কাজ চালিয়ে যাবেন বলে আশ্বস্ত করেন।
মামলার আসামিদের মানসিকভাবে অপরাধী হিসেবে উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী অভিযোগ করেন, সোহেলসহ অন্য আসামিরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অন্য একজনকে জড়িয়ে বিচার প্রক্রিয়াকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত ও বিলম্বিত করার চেষ্টা করেছিল।
তবে সব ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে বিচার প্রক্রিয়া সঠিক পথেই এগিয়েছে। সমাজ ও রাষ্ট্র থেকে এ ধরনের জঘন্য অপরাধ চিরতরে নির্মূল করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট সুপ্রিম কোর্ট বেঞ্চ যদি এই মামলাটিকে অগ্রাধিকার দিয়ে শুনানি করে, তবে আগামী তিন মাসের মধ্যেই রায় কার্যকর করা সম্ভব হবে।