রামিসা হত্যা মামলা
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৩ ঘণ্টা আগে
আপডেট : ১৩ ঘণ্টা আগে
রামিসা হত্যা মামলার আসামি সোহেল রানাকে সোমবার আদালতে নেওয়া হয়। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
ঢাকার পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ধার্য রয়েছে বৃহস্পতিবার।
ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করবেন রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের আইনজীবীরা।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, “আজ মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ধার্য রয়েছে। যদি যুক্তিতর্ক শেষ হয় তাহলে আজ রায়ের দিন নির্ধারণ হতে পারে।”
এদিকে আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আদালতে হাজির করা হয়েছে। তাদের মহানগর দায়রা জজ আদালতে রাখা হয়েছে। শুনানিকালে তাদের এজলাসে তোলা হবে।
আত্মপক্ষ শুনানিতে বুধবার আসামি সোহেল ও স্বপ্না নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন।
এর আগে মঙ্গলবার এ মামলায় চার্জশিটভুক্ত ১৮ সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের জবানবন্দি রেকর্ড করে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ করেন আদালত। মামলার বাদী ও ভিকটিমের বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লার জবানবন্দির মাধ্যমে এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়।
এরপর ভিকটিমের- মা পারভীন আক্তার, বড় বোন রাইসা আক্তার, ফুপু মাহমুদা আক্তার, চাচা মিজানুর রহমান লিটন, চতুর্থ তলার বাসিন্দা মনির হোসেন, প্রতিবেশী জাকিরুল ইসলাম রাজু, দ্বিতীয় তলার বাসিন্দা শেখ আবু সামা, ফুপা মনিরুজ্জামান শাহীন ও কনস্টেবল রোমা আক্তার, কনস্টেবল শরীফ মিয়া, সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা উপ-পরিদর্শক (এসআই) ইকবাল হোসেন, ময়নাতদন্ত প্রস্তুত করা ডা. নাসাদ জামিন, আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ, এসআই রাশেদুল ইসলাম ও তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের এসআই অহিদুজ্জামান পর্যায়ক্রমে আদালতে জবানবন্দি দেন।
গত ২৪ মে ট্রাইব্যুনাল দুই আসামির বিরুদ্ধে দাখিল করা অভিযোগপত্র আমলে নেয়। এর আগে একই দিনে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হকের আদালতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান অভিযোগপত্র জমা দেন। পরে মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে মোট ১৮ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।
মামলার সূত্রে জানা যায়, রামিসা পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। ঘর থেকে বের হলে ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে স্বপ্না তাকে কৌশলে রুমের ভেতরে নেয়। ওইদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন তার মা।
মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়, একপর্যায়ে আসামির রুমের সামনে শিশুটির জুতা দেখতে পান তিনি। ডাকাডাকির পর কোনও সাড়াশব্দ না পেয়ে রামিসার বাবা-মা এবং অন্যান্য ফ্ল্যাটের লোকজন দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে আসামির শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং মাথা রুমের ভেতরে একটি বড় বালতির মধ্যে দেখতে পান।
এরপর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এর মাধ্যমে কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার সামনে থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তারে সক্ষম হয় পুলিশ, উল্লেক করা হয় মামলায়।
এ ঘটনায় নিহত শিশু রামিশার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় ২০ মে মামলা দায়ের করেন।